সব দলের অংশগ্রহণ চান গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা

বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংবিধান সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও টকশো ব্যক্তিত্বরা। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন প্রক্রিয়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে লিখিত ও সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং টকশোতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা এসব বিষয় নিয়ে মতামত দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির এ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি এড়াতে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি সরকার। এ প্রস্তাবকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে কিছু মতামত এলেও ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। তবে বিরোধী দল আলোচনায় এলে জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি। বৈঠকে যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে আলোচনায় রাখার বিষয়ে তারা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধন হলেও সব পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা করার নজির খুব বেশি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত রূপরেখা দেওয়া হয়নি। বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চকক্ষ হলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে কি না এবং এটি অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করবে কি না-এ বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার উচ্চকক্ষে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত হলে নিরপেক্ষ সিভিল সোসাইটির পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।