শিশু সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার ভিডিও প্রবাসী স্বামীকে পাঠালেন স্ত্রী, অতঃপর…

মুঠোফোন অন করে ঘরের বাঁশের আড়ায় ওড়না ঝুলিয়ে রেখে শিশু সন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য ধারন করেন শিশুটির মা। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। এমন ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার রাত ১১ টায় শিশুটির মা’কে আটক করেছে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ওই শিশুসহ তাঁর দুই সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রাধানগর গ্রামে। ওই নারীর নাম বিথী আক্তার (৩০)। তিনি রাধানগর গ্রামের মালদ্বীপ প্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী।

জানা যায়, ফরিদপুরের নগরকান্দায় মালদ্বীপ প্রবাসী স্বামীকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ জন্য নিজের শিশু সন্তানকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ানোর চেষ্টা করেন ওই মা। ঘটনার ভিডিও নিজেই ধারণ করে তা স্বামীর কাছে পাঠান তিনি। পরে ভিডিওটি বাইরে চলে আসায় ভাইরাল হয়।

৫৯ সেকেন্ডের ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, টিনশেডের ঘরের বাশেঁর আড়ায় একটি ওড়না ঝুলানো রয়েছে। এ সময় এক হাত দিয়ে শিশুটিকে ধরে রেখে অপর হাত দিয়ে মুঠোফোনের ভিডিও চালু করেন শিশুটির মা। এরপর চৌকির ওপরে উঠে শিশুটিকে উঁচু করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এসময় শিশুটি হাত-পা ছিটিয়ে প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকে। শিশুটির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ঘরের বাইরে থেকে দড়জায় সাজোড়ে আঘাত করতে থাকেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শিশুটিকে যখন গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তখন সে কান্নাজরিত কন্ঠে বলতে থাকে, ‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও।’ একপর্যায়ে স্থানীয়দের শোরচিৎকারে শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ওই নারী।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায়, ভিডিওটি উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের। এরই মধ্যে শিশুটির ফুফু রনি বেগমও থানায় ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা বিথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পাশাপাশি দুই শিশু সন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে, বিথী আক্তারকে আটকের পর পুলিশের কাছে ঘটনার উদ্দেশ্যের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্বামী আব্বাস আলী দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ মালদ্বীপে রয়েছেন। তিনি দেশে আসেন না, সে কারণে সন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার ভিডিও করে তাকে পাঠানোর জন্য এমন ঘটনা ঘটান বলে দাবি করেন। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ এবং মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি।