দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সেবা আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত বিখ্যাত কে-পপ বয় ব্র্যান্ড ‘উইনার’-এর তারকা সদস্য সং মিন-হোকে (যিনি মঞ্চে ‘মিনো’ নামে পরিচিত) এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছে সেউলের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায়ে আদালত তাকে দুই বছরের জন্য পর্যবেক্ষণে (প্রোবেশন) রাখার নির্দেশ দেন। এই দুই বছর মেয়াদে তিনি কোনো নতুন অপরাধে না জড়ালে তাকে কারাগারে যেতে হবে না।
আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেউলের একটি সামাজিক সেবা কেন্দ্রে বিকল্প সামরিক সেবা প্রদানকালে মিনো মোট ১০২ দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় শারীরিক সক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিটি পুরুষ নাগরিকের জন্য অন্তত ১৮ মাসের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা প্রদান আইনত বাধ্যতামূলক। তবে স্বাস্থ্যগত কিংবা বিশেষ কিছু কারণে কাউকে কাউকে বিকল্প হিসেবে সামাজিক সেবা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। মিনো সেই সুযোগ পেলেও নিজের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়।
মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় উঠে আসে যে, ২০২৪ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরপরই মিনোর বিরুদ্ধে অসংগতিপূর্ণ উপস্থিতির অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি ঘন ঘন কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থেকেছেন এবং অতিরিক্ত অসুস্থতার ছুটি দেখিয়েছেন। এ কাজে সহায়তা করার দায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রটিতে কর্মরত তার তৎকালীন সুপারভাইজারকেও জালিয়াতি ও ভুয়া রেকর্ড তৈরির অপরাধে স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানি চলাকালে আদালত মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের স্বার্থে সামরিক সেবা দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুতর দায়িত্ব। এই দায়িত্বের ক্ষেত্র থেকে সামাজিক সেবা প্রতিনিধিরাও কোনো ছাড় পেতে পারেন না। তবে মিনো শুরু থেকেই নিজের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করায় এবং এটি তার প্রথম অপরাধ হওয়ায় বিচারক সাজা মওকুফ না করলেও কারাদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। রায় ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান এবং অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। অবশ্য পুনরায় নতুন করে বাধ্যতামূলক সেবা দেবেন কি না; এ বিষয়ে কোনো সরাসরি জবাব তিনি দেননি।
সূত্র: বিবিসি





