নতুন মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে সত্তর দশক থেকে ধীরে ধীরে কক্সবাজার পর্যটক কেন্দ্র এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। পর্যটকদের প্রত্যাশা প্রাপ্তির ফারাক ঘুচাতে সরকার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

এজন্য শুধু কক্সবাজার শহরকেদ্রিক নয়, সেন্ট মার্টিন, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ পুরো কক্সবাজারকে পর্যটন শিল্পের জন্য উপযোগী করতে চায় সরকার। কক্সবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ছয়টি তারকা হোটেলসহ রয়েছে ২৪টি বড় হোটেল। গড়ে উঠেছে ৩ শতাধিক রেস্তোরাঁও।

১৯৮৪ সালে কক্সবাজার জলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল, মোটেল নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন শুরু হয়। তৎসময়ে শীতকালীন অবকাশ যাপন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে কক্সবাজার।

পরবর্তীতে শহরের বাইপাস রোড নির্মাণ, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, বিমানবন্দর ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় কক্সবাজার এখন সারা বছর মুখর থাকা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পর্যটন শিল্প পূর্ণতা পাবে।

সরকার বর্তমানে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে কক্সবাজারকে একটি মূল ‘গ্রোথ হাব’ বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানটি চূড়ান্ত হয়ে এর অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কক্সবাজার বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সমুদ্রসৈকত ও রিসোর্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে পূর্ণতা পাবে।

পর্যটন শিল্পে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং হোটেল স্থাপনের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘মোটেল লাবণী কম্পাউন্ড, কক্সবাজারে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।

কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মোটেল লাবণী ও হোটেল শৈবাল এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যটন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করছে।