রাজনৈতিক বিক্ষোভ ঠেকাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সড়কজুড়ে বসানো হয়েছে হাজার হাজার কনটেইনার। এতে শুধু শহরের চলাচলই ব্যাহত হচ্ছে না, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকেরাও। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে পরিস্থিতিটিকে ব্যঙ্গ করে ইসলামাবাদকে ‘কনটেইনারাবাদ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিকল্পিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কনটেইনার বসানো হয়। পরিবহন সংগঠন ও কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসলামাবাদে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ভারী কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেইনারের অনেকগুলোই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল।
কনটেইনার আটকে রাখায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সেগুলোর মালিক ও ট্রাকচালকেরা। সাধারণত এসব কনটেইনার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাজধানীর সড়ক অবরোধে দিনের পর দিন পড়ে থাকায় পরিবহনকারীরা আয় হারাচ্ছেন এবং পণ্য সরবরাহের স্বাভাবিক চক্রও ব্যাহত হচ্ছে।
ইসলামাবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন অবরোধ নতুন নয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখের মিছিল ঠেকাতে রাজধানীর সঙ্গে পেশোয়ার, ডেরা ইসমাইল খান ও হাজারা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং অ্যাটক সেতুতে যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে বালু ও নুড়ি দিয়ে কনটেইনার ভারী করে সড়কে স্থায়ী বাধা তৈরি করা হয়।
রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। সড়কে কনটেইনার বসানো এবং নিরাপত্তা জোরদারের কারণে যানজট, পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায়।
সরকার অবশ্য বলছে, ইসলামাবাদ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল, অফিস ও জরুরি সেবাগুলো চালু রয়েছে এবং কনটেইনার ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে। তবে সরকারের প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেছেন, এসব ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থাকে এভাবে ব্যবহার করা কতটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, ইসলামাবাদের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একদিকে রাজনৈতিক সংঘাত, অন্যদিকে সেই সংঘাতের খরচ বহন করছেন পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকেরা।
তথ্য সূত্র- আলজাজিরা





