বয়স ৭০ পেরোতে তিন মাসের কম সময় বাকি রয়েছে। এ বয়সেও বার্ধক্যের সূত্র ওলটপালট করে দিচ্ছেন বলিউড তারকা অনিল কাপুর। পর্দায় এখনও রীতিমতো চমক দেখাচ্ছেন তিনি। সম্প্রীতি তার অভিনীত ‘সুবেদার’ ছবিটি ‘এশিয়ান একাডেমি ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস’-এ ভারতের হয়ে ‘সেরা ফিচার ফিল্ম’-এর পুরস্কার জিতেছে।
একই সঙ্গে অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য অনিল কাপুর ‘সেরা অভিনেতা’ (প্রধান চরিত্রে) হিসেবেও মনোনীত হয়েছেন। সুরেশ ত্রিবেণী পরিচালিত এই ছবিটির জন্য এই স্বীকৃতি একটি নতুন মাইলফলক। ত্রিবেণী নিজেও ফিচার ফিল্ম বিভাগে ‘সেরা পরিচালনা’-র জন্য মনোনীত হয়েছেন।
ছবিতে অনিল কাপুর একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক ‘অর্জুন মৌর্য’-র চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর শেয়ার করে অভিনেতা এই মনোনয়নকে তার ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুরস্কার জেতার খবরে এক প্রতিক্রিয়ায় এই অভিনেতা বলেন, আমার যাত্রাপথে এটি একটি অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত। দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ‘এশিয়ান একাডেমি ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস’-এ ‘সুবেদার’-এর জন্য সেরা অভিনেতা (প্রধান চরিত্রে) হিসেবে মনোনীত হতে পেরে আমি গর্বিত। পুরো টিম এবং যারা এই ছবিটিকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি পরিচালক ত্রিবেণীকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং একসঙ্গে ছবিটি তৈরির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
পরিচালককে অভিনন্দন জানানোর সময় কাপুর বলেন, ছবিটি তৈরির সময় আমরা যাত্রার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তার কারণে এটি আমার কাছে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
ঘরে ফেরা এক অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকের লড়াই
‘সুবেদার’ ছবিটি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক অর্জুন মৌর্যকে নিয়ে আবর্তিত, যিনি বাড়ি ফেরার পর সাধারণ নাগরিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মধ্যপ্রদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে তার পরিবারকে রক্ষা করা এবং নিজ এলাকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়ে শ্যামার (রাধিকা মদন অভিনীত) সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনেরও মুখোমুখি হন অর্জুন। পরিবারের পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে ওঠে, তখন উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলায় তিনি তার সামরিক অভিজ্ঞতার আশ্রয় নেন।
ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন খুশবু সুন্দর, সৌরভ শুক্লা, আদিত্য রাওয়াল, মোনা সিং এবং ফয়সাল মালিক। ত্রিবেণী পরিচালিত ‘সুবেদার’ ছবিটি গত ৫ মার্চ অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পায়। এশিয়ান একাডেমি ক্রিয়েটিভ। ‘ভ্যারাইটি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এশিয়ান একাডেমি ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস’-এর ঘোষিত ৩৩৫ জন জাতীয় বিজয়ীর মধ্যে ‘সুবেদার’ অন্যতম। এই পুরস্কারে ৩৯টি বিভাগে ১৮টি দেশ ও অঞ্চলের বিজয়ীদের সম্মানিত করা হয়েছে।
জ্যাকি চ্যান অভিনীত ‘দ্য শ্যাডোজ এজ’ চীনের মূল ভূখণ্ডের জন্য ‘সেরা ফিচার ফিল্ম’-এর পুরস্কার জিতেছে, আর ভারতের হয়ে এই সম্মান অর্জন করেছে ‘সুবেদার’। জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা এখন আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেবে; চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটল থিয়েটারে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে।
২৩টি পুরস্কার জিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিডিয়াকর্প; এরপর ১৯টি করে পুরস্কার নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ভিডিও ইন্ডিয়া ও অ্যাস্ট্রো মালয়েশিয়া। সিএনএন জিতেছে ১৫টি পুরস্কার। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিজয়ীদের মধ্যে, চীনের ড্রামা সিরিজ ‘দ্য লিড’ ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে এবং ‘লিজেন্ড অফ দ্য ম্যাগনেট’ সেরা ড্রামা সিরিজের খেতাব পেয়েছে।
জাপানের ক্ষেত্রে, ‘সং অফ দ্য সামুরাই’ পাঁচটি বিভাগে জয়ী হয়েছে এবং ‘অ্যালিস ইন বর্ডারল্যান্ড’ সেরা ড্রামা সিরিজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ভারতের ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’-এর তৃতীয় সিজনও চারটি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এশিয়ান একাডেমি ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস-এর চেয়ার বেভারলি ম্যাকগারভি বলেছেন, এই পুরস্কারগুলো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে গল্প বলার শৈলীর শক্তি ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। পুরস্কারের জন্য দুই ধাপের বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে জাতীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাদাররা জমা পড়া কাজগুলো মূল্যায়ন করেন এবং এরপর চূড়ান্ত প্রতিযোগীরা আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেন।





