সম্প্রীতি ঘোষিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ‘ড্র’ অনুযায়ী ইংল্যান্ডকে ‘গ্রুপ বি’-তে রাখা হয়েছে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং একটি বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দল (কোয়ালিফায়ার)। গ্রুপ পর্বের সূচিতে চতুর্থ ম্যাচে ২০ অক্টোবর বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।
ফলে ২৩ বছরের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের মাটিতে এটিই হবে হ্যারি ব্রুকদের সিনিয়র দলের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। এর আগে ২০০৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে সেখানে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল তারা। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক জিম্বাবুয়েকে রাখা হয়েছে ‘গ্রুপ এ’-তে; সেখানে তাদের সঙ্গী ভারত, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ‘কোয়ালিফায়ার এ’ (বাছাইপর্ব থেকে আসা একটি দল)। এই দুই দল ভিন্ন গ্রুপে থাকায় ‘সুপার সেভেন’ পর্বের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
‘গ্রুপ বি’-তে থাকার ফলে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে না। এই দুটি দলই ‘গ্রুপ এ’-তে রয়েছে। ফলে ‘সুপার সেভেন’ পর্ব বা তার পরবর্তী ধাপেই কেবল ইংল্যান্ডের সাথে তাদের দেখা হতে পারে। ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড সরাসরি টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
তাদের পঞ্চম প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মাধ্যমে। যা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টে অবশিষ্ট দুটি স্থানের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নেপালসহ মোট ১২টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। হারারেতে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, যার পেছনে রয়েছে দুই দেশের মধ্যকার অতীতের ইতিহাস।
২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের গ্রুপ ম্যাচটি ইংল্যান্ড বয়কট করেছিল। তৎকালীন অধিনায়ক নাসের হুসেইন রাজনৈতিক চাপ ও প্রাণনাশের হুমকিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। অবশ্য ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিসির একটি টুর্নামেন্টে (উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে) কেপটাউনে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েকে ৫০ রানে হারিয়েছিল। তবে সেই বয়কটের ঘটনার পর থেকে সেটিই ছিল তাদের একমাত্র মুখোমুখি লড়াই।
গত বছরের মে মাসে ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে তাদের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক পুনরায় শুরু করে। ওই বছরে জিম্বাবুয়ে দল ট্রেন্ট ব্রিজে একটিমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ইংল্যান্ড সফর করেছিল। ২২ বছরের মধ্যে এটিই ছিল তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ এবং দুই ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০০৪ সালের ওয়ানডে সিরিজের পর ইংল্যান্ডের সিনিয়র পুরুষ দল আর জিম্বাবুয়েতে খেলেনি। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দল জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল। তাই হারারেতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের ম্যাচটি হবে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে জিম্বাবুয়েতে ইংল্যান্ডের সিনিয়র পুরুষ দলের প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে আইসিসির বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্ট।





