রেফারি নিয়োগে কারসাজির অভিযোগে তুরস্কে ৫ কর্মকর্তা আটক

তুরস্কের ফুটবলে আবারও বড় ধরনের কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। রেফারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় রেফারি কমিটির প্রধান ফেরহাত গুনদোগদু এবং আরও চার কর্মকর্তাকে বিচার শুরুর আগে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালতে গুনদোগদুসহ সাত কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নথি জাল, দায়িত্বের অপব্যবহার এবং অবৈধভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত পাঁচজনকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। বাকি দুজনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, রেফারিদের শ্রেণিবিন্যাস, ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব বণ্টন, মূল্যায়ন ও নিয়োগের পাশাপাশি নিয়মসংক্রান্ত পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার পুলিশের অবৈধ জুয়া ও ক্রীড়া অপরাধবিরোধী ইউনিট তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের (টিএফএফ) ইস্তাম্বুল সদর দপ্তরে অভিযান চালায়। এ সময় ফেডারেশনের ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) কক্ষও তল্লাশি করা হয়।

এর এক বছর আগে অবৈধ বাজির অভিযোগে তুরস্কের ১৪৯ জন রেফারিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এবার নতুন করে রেফারি প্রশাসনের ভেতরের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেই কেলেঙ্কারির সঙ্গে বর্তমান তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে তুরস্কের শীর্ষ লিগ সুপার লিগের রেফারি ইয়াসিন কোল এবং এক সহকারী রেফারিকেও আটক করা হয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ক্রীড়া সাংবাদিক আয়হান সেনসয়ের মতে, চলমান তদন্ত ২০২৫ সালের জুয়া কেলেঙ্কারিরই ধারাবাহিকতা হতে পারে। তবে তদন্তের বিষয়ে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।