শিশিরের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী। ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। এরপর ষষ্ঠী থেকে দশমী আনুষ্ঠানিকতায় সারা দেশে উদ্যাপিত হবে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
এ বছর রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই পূজা হবে ২৫৯টি মণ্ডপে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গাপূজা। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।
গত বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৪৯৬টি পূজাম প বেড়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘এ বছর রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১ ম পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৫৯টি ম পে পূজা উদ্যাপিত হবে।
দেশের কিছু জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো আমরা দেখছি। পূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’
দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতি বছরই দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকে ভক্তদের মধ্যে।
এ বছর দেবীর আগমন হবে ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে কেন্দ্র করে প্রকৃতি ও জনজীবন সম্পর্কে নানা প্রতীকী অর্থ করা হয়। ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় আগমন বা গমনের ফল ছত্রভঙ্গ, ধ্বংস বা ধ্বংসাত্মক লীলার আশঙ্কা করা হয়।
নৌকার অর্থ বোঝায় বন্যা বা জলমগ্ন। তবে নৌকায় আগমন বা গমনের ফলস্বরূপ শস্যপূর্ণ বসুন্ধরাও বোঝানো হয়। কারণ বন্যা বা জলমগ্ন হলে জলের অভাব বা আকাল না থাকা এবং প্লাবনের পরবর্তীকালে পলিপূর্ণ ভূমিতে ফসলের ফলন বৃদ্ধি ঘটে।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রতিমা তৈরির ধুম। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী প্রতিমা।
রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পূজা উদ্যাপিত হয় পুরান ঢাকায়। এবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, আজিমপুর সরকারি কলোনি, ঋষিপাড়া দুর্গা মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে।
ছোটবড় বিভিন্ন ম পে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ। এ ছাড়াও স্বামীবাগে লোকনাথ মন্দির, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী ম পে পূজার আয়োজন চলছে পুরোদমে।
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে দেশের কিছু এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পূজা উদ্যাপনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশ বজায় রাখাই এখন আয়োজকদের অন্যতম প্রত্যাশা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। তবে কী ধরনের নিরাপত্তা নেওয়া হবে সেটি নির্ধারণের জন্য ৬ অক্টোবর মিটিং রয়েছে। ওই মিটিংয়ে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হবে।’
এদিকে সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সাধারণ ছুটি রয়েছে।
এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি থাকবে।





