পিংক বাসে নেই পর্যাপ্ত যাত্রী, প্রতিদিন ৬০ হাজার টাকা লোকসান

সীমিত রুট ও প্রচারের ঘাটতি আর যাত্রী না পাওয়ায় ধুঁকছে নারীদের জন্য বিশেষায়িত পিংক বাস সেবা। ১৮ আগস্ট চালুর পর থেকেই পরিচালন সংস্থা বিআরটিসির লোকসান প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, সেবাটি চালুর আগে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা ও চাহিদা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আর পিংক বাস সেবা বাড়াতে বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত অস্বস্তির। বাসে-ট্রেনে প্রতিনিয়তই হয়রানি আর নিপীড়নের শিকার হন তারা। এমন বাস্তবতায়, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিতে গত ১৮ আগস্ট মহিলা বাস সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন।

পিংক বাস সেবায় চালুর পর থেকে মিলছে না প্রত্যাশিত যাত্রী। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ফাঁকা থাকছে আসন। যাত্রীরা বলছেন, ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, দিনে ট্রিপ মাত্র দুটি। একটি সকালে, অন্যটি বিকেলে। নির্ধারিত ট্রিপ মিস করলে অনেক ব্যবহার করতে হয় নিয়মিত বাস, রিকশা কিংবা অন্য পরিবহন।

নারীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে পিংক বাস চালু হলেও পুরো উদ্যোগটিই অপরিকল্পিতভাবে বলে মত পরিবহন বিশেষজ্ঞদের। বলছেন, রুট নির্ধারণ, ট্রিপের সংখ্যা, সময়সূচি ও যাত্রীদের যাতায়াতের ধরন নিয়ে কার্যকর ফিল্ড ওয়ার্ক করা হলে বর্তমান সমস্যাগুলোর অনেকটাই এড়ানো যেতো।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, পিংক বাস আলাদা করে শুধু নারীদের জন্য ঢাকার মতো ব্যস্ত এবং খুব যেখানে চাহিদা রয়েছে, সেখানে এটা দীর্ঘদিন টেকানো যাবে না।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সেবাটি গ্রহণে নারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকায়, বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করারও পরিকল্পনা করছে সরকার।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা গ্রহণযোগ্যতার সৃষ্টি করেছে। সরকার যখন ইলেকট্রিক বাসে যাবে, তখন অনেক বাস পিংক বাসের সঙ্গে ইলেকট্রিক বাস সংযুক্ত করা হবে।

বর্তমানে রাজধানীতে চলাচল করছে ১০ টি পিংক বাস। বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।