অস্তিত্বসংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী কমলার দিঘি

বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে গাছপালা। কোথাও মাটির বুক চিরে ওপরে উঠে এসেছে গাছের গভীর শিকড়। কোথাও ভেঙে ধসে পড়েছে তীর। চারপাশের দৃশ্য দেখে মনে হয়, কোনো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতচিহ্ন ছড়িয়ে আছে এখানে। অথচ একসময় এই স্থানই ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য আধার। সবুজে ঘেরা পরিবেশ, দিঘির শান্ত জল আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে এখানে ভিড় করতেন অসংখ্য মানুষ। এখন সেই সৌন্দর্যের অনেকটাই বিলীন। ভাঙনের ক্ষত বুকে নিয়ে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী কমলার দিঘি।

নোয়াখালী হাতিয়ার অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র কাজির বাজারের কমলার দিঘি। একসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর থাকত এ স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানো কিংবা অবসর মুহূর্তে একটু প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসতেন এখানে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট। ভাঙন ও অবক্ষয়ের কারণে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এখানকার সৌন্দর্য। একসময়ের আকর্ষণীয় এই স্থান এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই যেন লড়াই করছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর দেশ বিদেশের অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই কমলা দিঘিতে ঘুরতে আসেন। উপজেলা সদরের কাছাকাছি হওয়ায় সবাই সহজে চলে আসতে পারতো। ভাঙনের কারনে এখানকার যেই অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিলো তা আর নেই। এবার এসে তারা খুবই হতাশ হয়েছেন। তারা সরকারের কাছে এই দর্শনীয় স্থানটি রক্ষার পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিশাল এই দর্শনীয় স্থানটি ভেঙে সামান্য কিছু অবশিষ্ট রয়েছে। এই অবশিষ্ট জায়গা যদি ব্লক বাঁধ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করা না হয় তাহলে শুধু একটি দর্শনীয় স্থানের সৌন্দর্যই নষ্ট হবে না, হারিয়ে যেতে পারে স্থানীয় মানুষের স্মৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিচিত একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। সে সাথে জোয়ারে প্লাবিত হবে পুরো হাতিয়া শহর।