আফিফ-হৃদয়ের ব্যাটিং তাণ্ডবে বরিশালের রানের পাহাড়

বাঁচা-মরার ম্যাচে দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন বরিশালের তরুণরা। সাইফ, আফিফ ও তৌহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বেক্সিমকো ঢাকাকে ১৯৪ রানের বিশাল লক্ষ্য দিল ফরচুন বরিশাল।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে তিন উইকেটে ১৯৩ রান করে ফরচুন বরিশাল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন তৌহিদ। একই সঙ্গে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আফিফ ও সাইফ।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বেশ দেখেশুনেই শুরু করেন তামিম। ওপেনিং জুটিতে সাইফের সঙ্গে তোলেন ৫৯ রান। অষ্টম ওভারে এই জুটি ভাঙেন আল আমিন। লং অফে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৯ রানে ফেরেন বরিশাল অধিনায়ক।

অধিনায়ক ফেরার পর পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে কিছুক্ষণ লড়াই করে বরিশাল। একাদশ ওভারে পারভেজকে ফিরিয়ে ওই জুটি ভাঙেন মুক্তার আলী। ডানহাতি পেসারের করা অফ স্টাম্পের বল মোকাবিলা করে ডিপ মিডউইকেটে মোহাম্মদ নাঈমের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পারভেজ (১১)।

এর মধ্যে ৪১ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাইফ। ৫০ ছোঁয়ার পরপরই রুবেল হোসেনের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর চতুর্থ উইকেটে বাকি কাজ সারেন আফিফ ও তৌহিদ। পুরো টুর্নামেন্টে রানের খরায় থাকা আফিফ মাত্র ২৫ বলে খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। তাঁর সঙ্গে থাকা তৌহিদও খেলেন দারুণ ইনিংস। মাত্র ২২ বলে তুলেন নেন ৫১ রান। আফিফ-তৌহিদের এই জুটি থেকে মাত্র ৩৮ বলে আসে ৯৩ রান। দুই তরুণের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিশাল পুঁজি পায় বরিশাল। 

আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বেক্সিমকো ঢাকা ও ফরচুন বরিশাল। চার জয়ে আট পয়েন্ট নিয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ঢাকা। তাই এই ম্যাচটি পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে যাওয়ার মিশন মুশফিকুর রহিমদের।

অন্যদিকে এই ম্যাচটি বরিশালের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে আছে তাঁরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে রাজশাহী। তাই আজ ঢাকাকে হারাতে পারলে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হবে তামিমদের। কিন্তু হারলে মেলাতে হবে সমীকরণ। সব সমীকরণ পেছনে ফেলে জয় তুলে নেওয়াই তামিমদের লক্ষ্য। মূলত এই ম্যাচের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে রাজশাহী ও বরিশালের ভাগ্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফরচুন বরিশাল ২০ ওভারে ১৯৩/৩ (তামিম ১৯, সাইফ ৫০, পারভেজ ১৩, আফিফ ৫০, তৌহিদ ৫১; মুক্তার ৪-০-৪৮-১, রবিউল ৪-০-৪০-০, নাসুম ৩-০-১৪-০, রুবেল ৪-০-২৮-১, শফিকুল ৪-০-৫১-১, আল আমিন ১-০-৫-১)