ভাবনার চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে দেশ: পরিকল্পনামন্ত্রী

৭১’র স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন-অর্জন ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, যেভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে- দেশ তার চেয়েও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। 

বিজয় দিবস উদযাপনের আগে এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এ কথা জানান। পরিকল্পনার চেয়ে উন্নয়নের গতি বেশি কিভাবে হচ্ছে সেই ব্যাখ্যাও করেছেন তিনি। 

তিনি বলেন, হয়তো পরিকল্পনা করা হয়েছে ‘এসময়ের’ মধ্যে আমরা ১শ’ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সময় শেষে দেখা গেল নির্মাণ করা হয়েছে দেড়শ’ কিলোমিটার সড়ক। অর্থাৎ পরিকল্পনার চেয়েও ৫০ কিলোমিটার সড়ক বেশি নির্মাণ করা হয়েছে। এই নির্মাণের সুফল কিন্তু দেশের নাগরিক ভোগ করছেন। পঞ্চবার্ষিকীসহ নানাভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ করছে সরকার। উন্নয়নের গতি এতোটাই বেশি যে এই উন্নয়ন-অর্জনকে পেছনে টেনে ধরা কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না। 

বিজয়ের মাসে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অর্জন নিজস্ব অর্থায়নে করা দৃশ্যমান পুরো পদ্মাসেতু। প্রমত্তা পদ্মার এপাড়-ওপাড় এখন একাকার। রাজধানীর বুকে দ্রুত এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের নির্মাণযজ্ঞ। বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে হচ্ছে দেশের প্রথম টানেল। গত এক যুগে এ যেন নতুন বাংলাদেশ, গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বেড়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইন্সটিটিউট’র জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ৪৯ বছর ধরে চলা ধারাবাহিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আমাদের মনস্তত্ত্বে। এতে অগ্রগতির পথে চলার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। 

কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, দীর্ঘদিনের দাবি বিনিয়োগ বাড়াতে এক অংকের সুদে ঋণ কার্যকরসহ সরকারের নানা রকম নীতি সহায়তায় সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোতে জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করোনার ধাক্কায় রপ্তানিখাত দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজসহ নীতি কাঠামোর সব পর্যায়ে এই খাতকে গুরুত্ব দেয়ায় আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। 

ব্যবসায়ীদের আরেক সংগঠন ডিসিসিআই’র সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সব সূচকই ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।  

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, মানবসম্পদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই দেশের মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সুযোগ দিয়ে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার আর ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর পথ কঠিন হবে না বলে বিশ্বাস করেন পর্যবেক্ষকরা।