প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের উদ্যোগেই প্রতিবন্ধীরা অন্ধকার থেকে আলোতে আসছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, একটা সময় শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের লুকিয়ে রাখতে হতো। এখন প্রতিবন্ধী শিশুরা বিশেষ শিশু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং বাবা-মা তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের শিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করার কথা ভাবছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের উদ্যোগেই প্রতিবন্ধীদেরকে কেন্দ্র করে দেশে নানা কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে, প্রতিবন্ধীরা অন্ধকার থেকে আলোতে আসছেন।
শনিবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে কৃষি, প্রতিবন্ধিতা ও করোনা বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, ইকো কো-অপারেশন, নরেক এবং বাংলাদেশ কৃষকলীগ পরিচালিত দুটি গবেষণার ফল উপস্থাপন ও কৃষি সাংবাদিকতায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে আগে প্রতিবন্ধীদের লুকিয়ে রাখা হতো। কিন্তু এখন বাবা-মা তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের শিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করার কথা ভাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদের বিশেষ উদ্যোগেই আজ প্রতিবন্ধীদের জন্য দেশে নানা কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। বিভিন্ন খাতে তারা ভাতা পাচ্ছেন, বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার পাচ্ছেন, অন্ধকার থেকে আলোতে আসছেন।’
প্রতিবন্ধী কৃষকদের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জয় করে কৃষিতে অবদান রাখাকে অনুকরণীয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে জনসংখ্যা আড়াইগুণ হয়েছে আর প্রতি বছর দুই লাখ একর কৃষি জমি কমলেও কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, যা বর্তমান সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে। কৃষিজমি যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে এবং নগরকৃষি এবং ছাদকৃষির ওপরও জোর দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের শতকরা ৮৬ জন শারীরিক ও কুষ্ঠ প্রতিবন্ধী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি সময় দেশের ৮৮ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষের আয় কমে গেছে ও পারিবারিক ব্যয় সংকোচনের জন্য এসময়কালে ২২ শতাংশ প্রতিবন্ধী মানুষ তাদের কন্যা সন্তানের বিয়ে দিয়েছেন।
‘বাংলাদেশে কৃষিতে প্রতিবন্ধী মানুষের ভূমিকা’ এবং ‘প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন-জীবিকায় কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব’ সম্পর্কিত দুইটি পৃথক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানানো হয়।
কৃষিতে প্রতিবন্ধী মানুষের অবদানভিত্তিক সংবাদের জন্য দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ এর পক্ষে সাংবাদিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ সেবা বিভাগের পরিচালক মাহফুজ হোসেন মৃধা, ইকো-কোঅপারেশন এর হেড অব প্রোগ্রামস্ মো. আবুল কালাম আজাদ এবং দি লেপ্রসি মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সলোমন সুমন হালদার উপস্থিত ছিলেন।





