জাকারিয়া পিন্টু, অধিনায়ক, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে আপন আলোয় উদ্ভাসিত স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। ১৯৭১ সালে রনাঙ্গনে যখন অস্ত্র হাতে লড়ছে মুক্তিযোদ্ধারা, তখন তানভীর মাজহার তান্না আর জাকারিয়া পিন্টুদের নেতৃত্বে ৩৪ থেকে ৩৬ জনের একটি ফুটবল দল জনমত গঠন ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে নিয়েছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
ভারতের মাটিতে উড়িয়েছে বাংলাদেশের পতাকা, খেলেছে ১৬টি প্রদর্শনী ম্যাচ। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জীবিত ১৯ সদস্যকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে গত ৯ ডিসেম্বর বাফুফে সংবর্ধনা দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে ফুটবল সৈনিকদের ফুল দিয়ে বরণ এবং ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানানো হয়। একটি দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সারা বিশ্বে জনমত গড়ে তোলা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সেই দিনগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন দলটির অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু।
ষাটের দশকে ঢাকার ক্লাব ফুটবলে অবাঙ্গালী ফুটবলারদের কদর ছিল একটু বেশিই। পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে ছিল বলে মাকরানী ও পাঞ্জাবি খেলোয়াড়রা মাঠের বাইরেও দাপট দেখাতো। কথায় কথায় বাঙালী ফুটবলারদের করতো উপহাস, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথা বলতো। বলতো ‘ এ লোক চাউল খাতা হ্যায়, কেয়া ফুটবল খেলে গা’। এমনসব উপহাস, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কথা ভীষন আহত করতো।
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী ফুটবলাররা মাঠে যতোই ভাল খেলুক না কেনো, পাকিস্তান জাতীয় দলে আমাদেরকে না নিতে যতো ধরনের ফন্দি এবং অপকৌশল ছিল, তা প্রয়োগ করতো সে সময়ের পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন। ছুঁতো খুঁজে জাতীয় দল থেকে আমাদেরকে বাদ দিতে লাহোর,করাচীতে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হতো। ক্যাম্পে আমাদেরকে দেয়া হতো নিম্নমানের খাবার। আমাদের সঙ্গে করা হতো বৈষম্যমূলক আচরণ।
তারপরও আমি, প্রতাপ শংকর হাজরা, হাফিজ ( মেজর অব. হাফিজউদ্দিন), গোলাম সারোয়ার টিপু, শহিদুর রহমান সান্টু পাকিস্তান ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা জাতীয় দলে আছি বলেই ঢাকা স্টেডিয়ামে ( বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) আমাদের খেলা দেখতে দর্শক উপচে পড়ছে গ্যালারি। অথচ আমাদের ফুটবলে হস্তক্ষেপ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের।
নানা ধরণের বঞ্চনার শিকার হতে হতে আমাদের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। তা বিস্ফোরিত হলো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনে। রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষনে তার নির্দেশ- ‘যার কাছে যা কিছু আছে,তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করো’। এমন কিছু শোনার জন্য আমরা ছিলাম প্রস্তুত। ওই ভাষনে পেলাম টনিক।
ভাবলাম,আমাদের কাছে তো অস্ত্র নেই তো কী ? ফুটবল তো আছে, এটাই হোক আমাদের আপাততঃ হাতিয়ার। ফুটবল খেলে,মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তহবিল তো সংগ্রহ করতে পারি আমরা। আমাদের ছাড়তে হবে দেশ, যেতে হবে ভারতে। যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়ে ২৪ মার্চ ঢাকা ছেড়ে সস্ত্রীক চলে গেলাম পৈত্রিক বাড়ি নওগাঁয়। নওগাঁ থেকে ভারতের সীমান্ত বালুরঘাট খুব বেশি দূরে নয়, ৪০ মাইলের মতো। মনে আছে ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পৌছে গেলাম বালুরঘাট। সেখানে মেজর জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হচ্ছে। তা শুনেছি আগেই। সেখানে পৌছে রিসিপশন ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দিলাম। এই ক্যাম্প থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম।
একদিন পেলাম মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের একটা চিঠি। ডাক এলো, যেতে হবে কলকাতায়। ক্যাম্পের কমান্ডার ইন চিফ মেজর জলিলও পেলেন চিঠি। সেই চিঠিয়ে লেখা নির্দেশ-‘পিন্টুকে পাঠিয়ে দাও, একটি ফুটবল টিম গঠন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধেও তহবিল সংগ্রহ করা হবে।’ এই চিঠিটি পেয়ে আমি রীতিমতো আনন্দে আত্মহারা। সেখান থেকে এলাম মুজিবনগরে। এসে দেখি ফুটবল দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। মরহুম আলী ইমাম (সাবেক ফুটবলার ও কোচ), প্রতাপ শংকর হাজরা, সাইদুর রহমান প্যাটেল ফুটবল দল গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আকাশবানী রেডিওতে প্রচারের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করা ফুটবলাদের দৃস্টি আকর্ষণ করা হলো। আগ্রহী ফুটবলারদের মুজিব নগরে জড়ো হওয়ার আবহান জানানো হলো আকাশবানী রেডিওতে।
রেডিওতে এই প্রচারে সাড়া পড়লো যথেষ্ট। শরণার্থী শিবির থেকে ৪০ জন কলকাতায় এলাম। সেখান থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে ৩৪ জনকে বেছে নেয়া হলো। কোচ এবং রেফারি ননী বসাক এবং ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না পেলেন বিশেষ দায়িত্ব। সবার উপস্থিতিতে আমাকে নির্বাচিত করা হলো অধিনায়ক। ঠিক করা হলো, ভারতের বিভিন্ন স্থানে ১৬টির মতো ম্যাচ খেলব আমরা।
খেলার মাঠ থেকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ব জনমত তৈরি করতে আমাদেরকে একটা টিম হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, স্থানীয় ফুটবল সমর্থকদের বাহাবা পেতে হবে। সে কারনেই এসব প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে আমরা বেশ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিন। নদীয়া জেলার কৃঞ্চনগরে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল খেলেছে প্রথম প্রদর্শনী ফুটবল। ঐতিহাসিক ওই মূহুর্তের জন্য আমরা সবাই শিহরিত ছিলাম। আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, খেলার আগে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করবো। এরপর মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা উড়বে, বেজে উঠবে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে উত্তোলিত হবে বাংলাদেশের পতাকা। বিষয়টি নদীয়া ক্রীড়া সমিতিকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃতি ছাড়া অন্য দেশের পতাকা উত্তোলন ফুটবল মাঠে নিষিদ্ধ। এই আইনটিই বাধা হয়ে দাঁড়ালো। তাছাড়া ভারত সরকার তখনো কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি-এ্টাও ছিল বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনে বাধার কারণ।
বিকেল ৫টায় আমাদের খেলা দেখতে দর্শক কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়ছি না। বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে হবে, বাজাতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত- এছাড়া খেলবো না আমরা। এক পর্যায়ে আমরা আমাদের পা থেকে বুট পর্যন্ত খুলে ফেলেছিলাম। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে নদীয়া তৎকালীনজেলা প্রশাসকের প্রতি। আমাদের দাবির মুখে নদীয়া জেলা প্রশাসক দীপক কান্তি ঘোষ নিজের উদ্যোগে ভারতও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সিদ্ধান্ত দিলেন। অগ্রভাগে অধিনায়ক আমি এবং সহ-অধিনায়ক প্রতাপ শংকর হাজরার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল জয়বাংলা পতাকা ( লাল-সবুজ পতাকায় বাংলাদেশের মানচিত্র) নিয়ে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করলো। সেই সঙ্গে বেজে উঠল জাতীয় সঙ্গীত-‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।’
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম এবং স্বীকৃতির আগেই আমরা খেলার মাঠে উড়িয়েছি বাংলাদেশের পতাকা, বাজিয়েছি জাতীয় সঙ্গীত। এমন ঘটনা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাহে আছে বলে জানা নেই আমার।
ঐতিহাসিক ওই প্রদর্শনী ম্যাচে আমরা দু’জন ছাড়াও খেলেছেন নুরুন্নবী (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত), লালু,আইনুল,হাকিম,খোকন,কায়কোবাদ,এনায়েত,সালাউদ্দিন,শাজাহান ও তসলিম। নদীয়ার কৃষ্ণনগর মাঠে ২৫ জুলাই, স্টেডিয়ামের আশেপাশে বড় গাছ ছিল। উক্ত মাঠে তিল ধরার ঠাই ছিল না দর্শকের কারণে। গাছে উঠেও মানুষ খেলা দেখেছে। আমাদের প্রতি ভারতবাসীদের সহমর্মিতা দেখে অবাক হয়েছি।
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ঐতিহাসিক সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র’ হয়। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠানোর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছে প্রেরণা, হয়ে গেছে ইতিহাস।
আমাদের দাবি মেনে নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর দায়ে নদীয়া জেলার প্রশাসক দীপক কান্তি ঘোষকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ভারত সরকার তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল এসোসিয়েশন (আইএফএ) নদীয়া ক্রীড়া সমিতির অ্যাফিলিয়েশন বাতিল করে।
তবে খেলার মাঠে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি যখন দিয়েছে ভারত, তখন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে বাধা কোথায় ? এটাই আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিকামী জনতার পাশে থেকে যুদ্ধ এবং সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী। তাতেই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা হয় উদ্বুদ্ধ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১৬টি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ খেলেছি আমরা। এই ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জিতেছি, ৪টি হেরেছি, ৩টিতে ড্র করেছি। ঐসব ম্যাচ থেকে ৫ লাখ রূপী তুলে তা মুক্তিযুদ্ধের তহবিলে জমা দিয়েছি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে না নিয়েও ফুটবলের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল যে ভুমিকা রেখেছে,তা অবিস্মরণীয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের একটি নামফলকে আটকে গেছে আমাদের কৃতিত্ব, স্বীকৃতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজি সালাউদ্দিন নিজেও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিনিধি, স্ট্রাইকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সু্বর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে সম্বর্ধনা দিয়ে উনি প্রশংসিত ভুমিকা রেখেছেন।
নদীয়ায় ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই আমরাই প্রথম বিদেশের মাটিতে উড়িয়েছি বাংলাদেশের পতাকা। ঐতিহাসিক ঐ দিনটিকে বাংলাদেশের ক্রীড়া দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বহুবার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে সরকারের বিশাল আয়োজনেও এই দাবি পূরণ হয়নি। আলী ইমাম, আইনুল,অমলেশ সেন, মাহামুদ, নুরুন্নবী, সিরু দেখে যেতে পারেননি সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি, পৃথিবীর মায়া ছেড়ে গেছেন তারা। জীবদ্দশায় সরকারের পক্ষ থেকে আদৌ কি পাব বিশেষ স্বীকৃতি ? এ প্রশ্ন নিয়েই এখন এক একটি দিন করছি পার। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছি, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবল অভিষেকেও অধিনায়ক আমি। তবে আমার গর্ব স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে পেরেছি, বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে পেরেছে ফুটবল দল আমার নেতৃত্বে এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের স্বীকৃতির দিকে তাকিয়ে দিন গুনছি আমরা।
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল : জাকারিয়া পিন্টু ( অধিনায়ক), প্রতাপ শংকর হাজরা ( সহ-অধিনায়ক),আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, শেখ লালু, কাজি সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, কে এন নওশেরুজ্জামান, সুভাষ চন্দ্র সাহা,জফলে হোসাইন, আব্দুল হাকিম,তসলিমউদ্দিন শেখ , আমিনুল ইসলাম সুরুজ, আব্দুল মোমেন জোয়ার্দার, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পেয়ারু, আবদুস সাত্তার, প্রান গোবিন্দ কুন্ডু,মজিবুর রহমান, খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান খান, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সঞ্জিত কুমার দে, মাহমুদুর রহমান,নিহার কান্তি দাস, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরু,সাইদুর রহমান প্যাটেল,মোজাম্মেল হক, ধীরেন দাস,আবদুল খালেক।
ননী বসাক ( কোচ), তানভীর মাজহারুল ইসলাম ( ম্যানেজার)।





