ঢাকা: দীর্ঘ ৫ বছর পর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ( ঢাবি) ছাত্রলীগের হল সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
আজ রোববার ( ৩০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত টিএসসি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এ সাংগঠনিক কর্মসূচি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট দেশের সবচেয়ে পুরনো ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর মধ্যে অন্যতম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সিঁড়ি হিসেবে এই ইউনিটকে বিবেচনা করা হয়।
মূলত হল কেন্দ্রিক পরিচালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবসিক হলে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ছাত্রলীগ।
বিগত এক দশকের বেশি সময় নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে সংগঠনটি হলগুলোতে অনেকটা প্রশাসনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
এ কারণে হলগুলোর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা থাকে। সাধারণত হলগুলোতে এক বছর মেয়াদে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হয়।
তবে সর্বশেষ ২০১৬ সালের পর হলগুলোতে নতুন করে কোনো কমিটি দিতে পারেনি ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল, করোনা মহামারি ইত্যাদির কারণে বিলম্ব শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হলেও ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার মতানৈক্য, প্রটোকল ও পদ হারানোর ভয়ই মূলত এই দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ছাত্রলীগের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ে দুই দফায় কমিটি গঠনের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে হল সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা পরিণতি পায়নি।
বারবার কমিটি পিছিয়ে যাওয়ায় নেতাকর্মীসহ হলে পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা অসন্তোষ ছিল। সেটি প্রকাশ্যে আসে এই মাসের মাঝামাঝিতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দ্রুত হল সম্মেলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ পদ প্রত্যাশীদের তোপের মুখে পড়েন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা।
এর দু’দিন পরই (১৬ই জানুয়ারি) ৩০শে জানুয়ারি হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে সংগঠনটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ৩৬ পদের বিপরীতে ৩৩০ আগ্রহী জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন বলে সংগঠনটির দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।
আজকের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানাতে আজকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হল কমিটিতে শিক্ষার্থী বান্ধব ও যোগ্যদের নেতৃত্বে আনা হবে বলে জানান ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
হল সম্মেলনে করোনা সংক্রমণ ও স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে উল্লেখ করে সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের উপযোগী মানবসম্পদ গড়তে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
ছাত্রলীগ একটি স্বাধীন সংগঠন উল্লেখ করে হলগুলোর নেতৃত্বে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতারা কোনো ধরনের সুপারিশ বা হস্তক্ষেপ করবে না বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রভাতনিউজ/এবিএস





