প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারায় লঙ্কানরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা জিততে হলে শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৮ রান। বর্তমান সময়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থা এতটাও ভালো নয় যে, শেষ ওভারে এত রান নিয়ে হার এড়াবে। কিন্তু যা কেউ আশা করেনি সেটাই করে দেখালেন দাসুন শানাকা!
কেইন রিচার্ডসনের করা শেষ ওভারের প্রথম দুই বল ছিল ওয়াইড। এরপর প্রান্ত বদল করে এক রান নেন শানাকা। দ্বিতীয় বলে লেগ বাই থেকে এক রান নিয়ে আবারও স্ট্রাইক নেন শানাকা।
তৃতীয় বলটা ইয়র্কার লেংথে ফেললেও রক্ষা হয়নি, বেকওয়ার্ড অঞ্চল দিয়ে পার করেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে আবারও চার, এবার লং অফ দিয়ে।
জিততে হলে লাগে আরও ছয় রান, বল আছে দুটি। শানাকা আর দেরি করেননি, পঞ্চম বলেই মারেন ছয়। শেষ বলে এবার ওয়াইড দিয়ে লঙ্কানদের জয় তুলে দেন রিচার্ডসন এক বল হাতে রেখেই ১৭৬ রানের পাহাড় টপকে যায় শ্রীলঙ্কা। শানাকা অপরাজিত থাকেন ৫৪ (২৫) রানে।
পাল্লেকেলেতে বড় লক্ষ্য টপকাতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কান দুই ওপেনারের। ধানুস্কা গুনাথিলাকা ১২ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন হ্যাজেলউডের বলে ক্যাচ দিয়ে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে চারিথ আসিলাঙ্কা ১৯ বলে২৬ রান করে ফেরেন মার্কাস স্টয়নিসের বলে ক্যাচ দিয়ে।
আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাটে আসে ২৭ রান। টপ অর্ডারে রান আসলেও মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার ভানুকা রাজাপাকসে (১৭)ও কুশল মেন্ডিস (৬) ব্যর্থ হন বড় ইনিংস খেলতে।
একপাশ আগলে রাখেন দাসুন শানাকা। অন্য প্রান্তে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ফিরেন ৮ রান করে। এরপর চামিকা করুণারত্নেকে নিয়ে ৬৯ রানের অনবদ্য জুটিতে ১ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন হ্যাজেলউড ও স্টয়নিস। ১ উইকেট করে নেন জ্যে রিচার্ডসন ও অ্যাস্টন অ্যাগার।
এর আগে সন্ধ্যায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার যোগ করেন ৪৩ রান। জুটি ভাঙে ফিঞ্চের ২৯ রানে বিদায়ে। এরপর গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েলকে ১৬ রানে বিদায় করেন হাসারাঙ্গা। ৩৯ রান করা ওয়ার্নারকে ফেরান থেকসেনা। এছাড়া ৩৭ রান করেন স্টিভ স্মিথ ও ৩৮ রান করেন মার্কাস স্টয়নিস। নির্দিষ্ট ওভার শেষে ৫উইকেটে ১৭৬ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২ উইকেট নেন মাহেশ থেকসেনা। ১ উইকেট করে নেন হাসারাঙ্গা ও প্রভিন জয়াভিক্রমা।





