ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ষোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের পঞ্চদশ করপোরেশন সভায় সর্বসম্মতভাবে এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাজেট পেশকালে মেয়র বলেন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের সাতাশ মাস অতিক্রম করে চলেছি। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, করোনা মহামারির প্রথম ঢেউয়ের চূড়ান্ত প্রকোপকালে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি এবং সারাবিশ্বের ন্যায় বিগত ২ বছরের অধিকাংশ সময় বাংলাদেশও করোনা মহামারীর চরম ভীতিকর পরিস্থিতিতে নিপতিত ছিল। ঢাকাবাসীর কল্যাণে এই করোনা মহামারীর মাঝেই আমরা নতুন কর্মস্পৃহা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আমাদের বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত দিনে আমরা উন্নত ঢাকা গড়ার ভিত অনেকটাই সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে নতুন আরেকটি ধাপে উন্নীত হয়েছি।২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি আপনাদের আনন্দের সাথে জানাতে চাই, শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘উন্নত ঢাকা গড়ার ভিত’ রচনা মজবুত করতে সক্ষম হয়েছি এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা নতুন আরেকটি ধাপে পদার্পণ করতে যাচ্ছি।
আপনারা জানেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ৭০৩.৩১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করেছে। আজ আমি আনন্দের সাথে জানাতে চাই যে, বিগত অর্থবছরে আমরা রাজস্ব আদায়ে পূর্বেকার সেই মাইলফলক অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস গড়তে সমর্থ হয়েছি। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমরা কর্পোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮৭৯.৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মনে করে, কয়েকটি কারণে এই অসাধ্য সাধন সম্ভবপর হয়েছে। আমি নির্বাচনকালীন কোনও কর বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করেছি। আমরা কোনও কর বৃদ্ধি করিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। বিধায় দুর্নীতি কমেছে, ফলে আয় বেড়েছে। তৃতীয়ত, সামষ্ঠিকভাবে উল্লেখযোগ্য হারে হয়রানি কমেছে এবং সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ঢাকাবাসীর আস্থা বেড়েছে এবং কর পরিশোধ করার আগ্রহও বেড়েছে। চতুর্থত, ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্বেকার যে কোনও সময়ের চাইতে জবাবদিহিতা বেড়েছে এবং অপচয় রোধ হয়েছে।
আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনেছি। শুরু করা হয়েছে বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। নতুন এই কার্যক্রমের আওতায় পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ, মানসম্পন্ন কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় ও মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আমার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে কর্পোরেশনের শুধু পুরাতন ৫৭টি ওয়ার্ডেই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তাছাড়া, সে সময় প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে মাত্র ৪ জন মশক কর্মী এবং প্রতি ৪/৫টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র একজন করে মশক সুপারভাইজার নিয়োজিত ছিল। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা প্রতি ওয়ার্ডে ১৩ জন মশক কর্মী ও ১ জন করে মশক সুপারভাইজার নিয়োগ করেছি। বর্তমানে প্রতি ওয়ার্ডে মোট ১৪ জন করে ৭৫টি ওয়ার্ডে সর্বমোট ১ হাজার ৫০ জন কর্মী লার্ভিসাইডিং, এডাল্টিসাইডিং এবং কীটনাশক প্রয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ তদারকি ও সমন্বয় করে চলেছে।
আমরা আশাবাদী, গতবারের চাইতে এবার আরও বেশি সফলতার সহিত এডিস মশক নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তবে, সেজন্য অবশ্যই ঢাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আঙ্গিনা ও আশপাশ, বাড়ির অভ্যন্তরে যেখানেই এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হোক না কেন, দয়া করে আপনারা সেগুলো ধ্বংস করুন। আপনারা যদি না পারেন তাহলে আমাদেরকে অবহিত করুন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একইভাবে ঢাকাবাসীকে নিবেদন করতে চাই যে, আপনার ছাদবাগান যেন অপরিচর্যিত না থাকে।
এক সময় ঢাকা শহরের মূল সড়ক, অলি-গলিসহ যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকত। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, কর্পোরেশনের দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসে মাত্র ২৩টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ছিল। দায়িত্বভার গ্রহণের পর কার্যকর ও যুগোপযোগী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডেই অন্তবর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আপনারা জেনে খুশি হবেন, বিগত ২ বছরে নতুন আরও ৩৩টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করা। সে লক্ষ্যে আমরা দৃশ্যমানভাবেই এগিয়ে চলেছি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বর্জ্য সংগ্রহ ও তা সরাসরি কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে আমরা ৩০টি কম্পেক্টর ভেহিক্যাল ক্রয় করছি। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আহবানকৃত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মূল্যায়ন কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে আরও শতাধিক যানবাহন ও যান-যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে আমরা নতুন আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করছি। এছাড়াও অধিকতর কার্যকরভাবে খাল হতে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করতে লং বুম, শর্ট বুমসহ বিভিন্ন আকারের প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি ক্রয় করাও আমাদের সক্রিয় পরিকল্পনায় রয়েছে।
গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই যেভাবে প্রাথমিক বর্জ্য সেবা সংগ্রহকারী নিবন্ধন কার্যক্রমে সফলতা পেয়েছি একইভাবে আগামীদিনে মেডিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহ সেবায়ও আমরা ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পারব বলে আশাবাদী। সার্বিকভাবে বলা যায়, ২০২৩ সালের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো বলে আমরা আশাবাদী।
জলাবদ্ধতা নিরসন আমাদের জন্য অন্যতম এক বড় প্রতিবন্ধকতা। নগরীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডে বিশেষত রাপা প্লাজা সংলগ্ন এলাকা, আজিমপুর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, নটরডেম কলেজ সংলগ্ন মতিঝিল এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যেতো। বছর বছর ময়লা পানিতে নিমজ্জিত থাকা ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার কবল হতে মুক্তি দিতে আমরা সেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ হতে আমরা ১১টি মৃত প্রায় খাল, ২টি অচল পাম্প স্টেশন এবং জমাটবদ্ধ ময়লায় আবদ্ধ ৫টি অচল বক্স কালভার্টের দায়িত্ব গ্রহণ করি।
ইতোমধ্যে আমরা পাম্প হাউজ দুটিকে আংশিকভাবে চালু করতে সমর্থ হয়েছি এবং সেগুলো পুরোপুরিভাবে চালু করার লক্ষ্যে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ সালে সাড়ে ২৭ কিমি দৈর্ঘ্যের ২টি বক্স কালভার্ট, ৭টি খাল এবং ৭০০ কিমি দৈর্ঘ্যের পাইপ নর্দমা হতে ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার টন বর্জ্য ও পলি অপসারণ করা হয়েছে। ২০২২ সালে অদ্যাবধি ৩৭ কিমি এর অধিক দৈর্ঘ্যসম্পন্ন ১১টি খাল হতে এ পর্যন্ত আমরা ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ২৬৪ টন বর্জ্য ও পলি অপসারণ করেছি।
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এরকম ১৩৫টি স্থান চিহ্নিত করে সেসব স্থানে আমরা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প মেয়াদী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯১টি স্থানে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ১০টি স্থানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাকী স্থানগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
আপনারা জানেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খালগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেজন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই সেসব প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া যাবে। অনুমোদন পাওয়ার পর খালগুলোর সার্বিক পরিবেশের যেমন মানোন্নয়ন ঘটবে তেমনি মধ্য মেয়াদী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনেও ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও, ঢাকা মহানগরীর জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় আমরা দীর্ঘ মেয়াদে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি।
খাল ও বক্স কালভার্ট হতে বর্জ্য ও পলি অপসারণ এবং অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের ফলে গত বছর ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়নি। অতি বৃষ্টি হলেও ১ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির পানি নিষ্কাষিত হয়েছে। এ বছর ঢাকাবাসীকে আমরা আরও বেশি মাত্রায় সুফল দিতে পারব বলে আশাবাদী। পুরান ঢাকার দুয়েকটি স্থান বাদে অতি বৃষ্টি হলেও অন্যান্য জায়গা হতে এ বছর ৩০ মিনিটের মধ্যেই বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রিক্সা, ভ্যান, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি ও টালি গাড়ি ইত্যাদি ৭ লক্ষাধিক অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে থাকে। আমরা সেসব অযান্ত্রিক যানবাহনকে শৃঙ্খলায় আনতে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর নিবন্ধন ও নবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ কার্যক্রমে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ০৮টি অযান্ত্রিক যানবাহনকে ইতোমধ্যে নিবন্ধন এবং সেগুলোকে Radio Frequency Indentification (RFID) ট্যাগ সংবলিত ডিজিটাল নম্বর প্লেট প্রদান করা হয়েছে। ফলে, বৈধ ও অবৈধ অযান্ত্রিক যানবাহন সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং আগামীদিনে নিবন্ধনবিহীন কোনও অযান্ত্রিক যানবাহন ঢাকা শহরে আর চলতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা শহরের গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ২১ নম্বর যাত্রাপথে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কার্যক্রম চালু করতে সমর্থ হয়েছি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর যাত্রাপথে পরীক্ষামূলকভাবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ যাত্রা শুরু করে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর নতুন ৩ যাত্রাপথে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।
আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে বিগত ২ বছরে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে লক্ষীবাজার খেলার মাঠ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে টিকাটুলি খেলার মাঠ, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগঞ্জ খেলার মাঠের উন্নয়নের পর তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বকশিবাজার খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
আপনারা জানেন, ঐতিহ্যবাহী ধুপখোলা মাঠটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে ছিল। আমরা ধুপখোলা খেলার মাঠের উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল মাঠ, মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে শিশুদের খেলার জন্য আলাদা স্থান (Play Zone) এবং একটি বাস্কেটবল মাঠ প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায় অনুযায়ী পুরান ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদী কাজের অংশ হিসেবে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে পানি প্রবাহ সচল রাখার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পলি অপসারণ, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার এবং দুই পার্শ্বে সীমানা স্তম্ভ স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসের ২৯ তারিখে মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম সে কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের খনন কাজ অব্যাহত রাখতে এবারের বাজেটেও ২৫ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী কাজের অংশ হিসেবে ‘বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন’ কাজ এর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী মাসেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে পারব। পরবর্তীতে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেলের খনন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে ডিপিপি প্রণয়ন করে তা প্রকল্প প্রস্তাব হিসেবে প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, আমার ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে প্রথম বছরে উন্নত ঢাকা গড়ে তোলার একটি মজবুত ভিত্তি রচনা করতে সক্ষম হয়েছি। দ্বিতীয় বছরে সেই ভিত যেমন শক্তিশালী হয়েছে তেমনি পেয়েছে নতুন আরেক মাত্রাও। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঐতিহ্যের সুন্দর, সচল, সুশাসিত ও উন্নত ঢাকা বিনির্মাণে অতীতের ন্যায় আগামী দিনেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ঢাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ঢাকা শহরের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় আমরা একটি আধুনিক, সচল ও উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্যানেল মেয়র (মেয়র প্যানেলের ১ নম্বর সদস্য) মো. শহিদ উল্লাহ মিনু, অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম।





