গত মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) নরসিংদী সদরের আলোকবালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান হাসানকে তার নিজবাড়ি থেকে ককটেল, হাতবোমা, গান পাউডার ও বোমা বানানোর সরঞ্জামসহ আটক করে পুলিশ।
এই ঘটনার পর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ইমান হাসানসহ বাকি যে ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে ইমান হাসানকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলার অন্য আসামিদের দাবি, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনোক্রমেই জড়িত নন। কেবল বিএনপির রাজনীতি করেন বলে তাদের ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ইমান হাসানের বাড়ি থেকে তিনটি বিস্ফোরকদ্রব্যযুক্ত ককটেল, ৫৪টি ছোট-বড় মার্বেল, ৭৪টি পাথরের টুকরো, পাঁচটি খালি কৌটা এবং সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৫৪০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরস্পরের যোগসাজশে অবৈধভাবে সাধারণ জনগণের ক্ষতিসাধন ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিস্ফোরকদ্রব্য রাখায় তাদের (আসামিদের) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ইমান হাসানকে। ২ নম্বর আসামি বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম সরকার।
আবদুল কাইয়ুমের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু না জানানো হলেও নরসিংদী জেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল আহমেদের দাবি, একই মামলায় আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল কাইয়ুমকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আগেই একটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা আছে।
নরসিংদী জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য জাহেদুল করিম জাহিদ বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে ভয় পাচ্ছে বলেই এমন গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। আর কিছু কিছু পুলিশ স্পষ্টত রাষ্ট্রের পুলিশের পরিবর্তে সরকারের পুলিশে পরিণত হয়েছে। এরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবে, এমন প্রত্যাশা করছি।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান হাসানের বাড়িতে পরিত্যক্ত ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম রেখে তাকে ফাঁসিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’





