ইসলামে মিতব্যয়ের পরিমাণ ও পরিধি

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা খরচ করার সময় বাহুল্য খরচ করে না, আবার কৃপণতাও করে না, বরং তাদের ব্যয় এই প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী হয়ে থাকে। তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না। আল্লাহ হারাম করা কোনো প্রাণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে না। ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। যে-ই এ অপরাধের কাজ করবে, সে অবশ্যই তার অপরাধের প্রতিফল লাভ করবে।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৬৭-৬৮)

অর্থাৎ তারা এমন নয় যে বিলাসিতা, জুয়া খেলা, মদ্যপান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, মেলা এবং বিয়েশাদিতে অঢেল অর্থ ব্যয় করবে এবং নিজের অবস্থার চেয়ে বেশি জৌলুস দেখানোর জন্য খানাপিনা, ঘরবাড়ি, পোশাক-আশক, সাজসজ্জা ও বেশভুষায় দুই হাতে অর্থ লুটাবে। পক্ষান্তরে তারা এমনও নয়, অর্থপূজারী ব্যক্তির মতো পাই পাই করে অর্থকড়ি ধনদৌলত সংগ্রহ করবে; অথচ নিজেও খাবে না, সামর্থ্যানুযায়ী সন্তান সন্ততির প্রয়োজনও পূরণ করবে না এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো কল্যাণমূলক কাজেও ব্যয় করবে না। তৎকালীন আরব দেশে এই দুই ধরনের লোকই ছিল। একদিকে ছিল সেসব লোক, যারা লাগামহীনভাবে অর্থকড়ি ব্যয় করত। এরা অর্থকড়ি ব্যয় করত নিজেদের ভোগবিলাসিতার জন্য, সমাজে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রাখার এবং স্বীয় বদান্যতা ও ধনদৌলতের ডঙ্কা বাজানোর জন্য। অন্যদিকে ছিল সেসব কৃপণ লোক, যাদের কৃপণতা খ্যাতি অর্জন করেছিল। খুব কম লোক ছিল, যারা মিতব্যয়িতার নীতি অবলম্বন করত। এই গুটিকয়েক মিতব্যয়ী ব্যক্তির মধ্যেও রাসুলে করিম (সা.) এবং তাঁর সাথীরাই ছিলেন সর্বাত্মক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ প্রসঙ্গে অপব্যয় ও কৃপণতার সংজ্ঞা জেনে নেওয়া দরকার।

ইসলামের দৃষ্টিতে তিনটি জিনিসকে অপব্যয় বলা হয় :

এক. অবৈধ কাজে অর্থসম্পদ ব্যয় করা, তা একটি পয়সাও হোক না কেন।

দুই. বৈধ কাজে খরচ করতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন করা, চাই তা সামর্থ্যের চেয়ে বেশি খরচ করা হোক কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধনসম্পদ নিজের ভোগবিলাস ও জাঁকজমকের জন্য ব্যয় করা হোক।

তিন. ভালো কাজে ব্যয় করা; কিন্তু তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য নয়, বরং লোক দেখানো ও আত্মপ্রচারের জন্য করা।

অন্যদিকে দুটি জিনিসকে কৃপণতা বলা হয় :

১.  সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের ও সন্তান-সন্ততির প্রয়োজন পূরণ না করা এবং

২.  ভালো, ন্যায় ও কল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় না করা। এই দুই প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী অবস্থাই হলো মিতব্যয়।