নান্নুদের ক্ষমতা খর্ব করেছিলেন হাথুরাসিংহে

টাইগারদের প্রধান কোচ হিসেবে চন্দিকা হাথুরাসিংহের প্রথম মেয়াদে দুর্দান্ত সাফল্য যেমন ছিল, তেমনই ছিল প্রচুর বিতর্ক। বিসিবি তাকে এতটাই ক্ষমতা দিয়েছিল যে, ক্রমেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহাশক্তিধর ব্যক্তি। অনেকটা একনায়কের মতো তিনি দল পরিচালনা করতেন। তিনি দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। তাই নির্বাচকমণ্ডলীর ক্ষমতা খর্ব হয়েছিল।

২০১৪ সালের মে মাসে চন্দিকা হাথুরাসিংহে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের হেড কোচের দায়িত্ব নেন, তখন টাইগারদের নির্বাচক ছিলেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। যিনি বর্তমানে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর দুই বছর পর সেই নির্বাচক কমিটিকে পাঁচ সদস্যে উন্নীত করা হয়। যার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন সে সময়কার প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তখন থেকেই প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাথুরাসিংহের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান নান্নু। কিন্তু হাথুরার সঙ্গে নান্নুদের কাজের সম্পর্কও খুব একটা ভালো ছিল না।

কোচ হিসেবে হাথুরাসিংহে ছিলেন অনেকটা একনায়ক। যে ক্রিকেটার তার পছন্দ হতো, তাকেই দলে নিয়ে নিতেন। এসব ক্ষেত্রে নান্নু-বাশারদের মতামতের খুব একটা ধার ধারতেন না হাথুরা। তাছাড়া সবসময় বিসবির ওপর মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে যাওয়ায় এই শ্রীলঙ্কানকে নিয়ে কেউ ঘাটানোর সাহস পেত না। এবার হাথুরা যখন আসছেন, তখনও নান্নুকে পাবেন প্রধান নির্বাচক হিসেবে। এছাড়া খালেদ মাহমুদ সুজন আছেন দলের ‘টিম ডিরেক্টর’ পদে। অনেকেই অনুমান করছেন, হাথুরার নতুন ইনিংসে ব্যাপক রদবদল হবে।

মনে রাখতে হবে, ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ফোন রিসিভ করেননি, এসএমএসের জবাব দেননি বলে শোনা যায়। ওই সময় নান্নু গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অবশ্যই তাকে মিস করবো। ওর সময়ে আমাদের ভালো দিন গেছে। সুতরাং তাকে তো মিস করবোই।’ এত কিছুর পরও কিন্তু হাথুরাকেই কোচ হিসেবে পছন্দ করেছেন পাপন। যে কারণে ঠিক ৫ বছর ৪ মাস পর আবারও ফিরে আসছেন চন্দিকা হাথুরাসিংহে।