শুধু জাপানকে না, চিঠি তো বহু দেশকে দিয়েছি : মির্জা ফখরুল

পাঁচ উপ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি ছিল না দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বুধবার তথাকথিত নির্বাচন কমিশন যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠান করল সেটাতে ইসি হিসেব মতো ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর আমাদের হিসাব মতে ৫ শতাংশের বেশি হয় নাই। অনলাইনে দেখেছি- কুকুর শুয়ে আছে মানুষ নাই। এই অবস্থায় তারা (সরকার) নিয়ে চলে গেছে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ উপ নির্বাচনের চিত্র তু্লে ধরে তিনি এই দাবি করেন।মির্জা ফখরুল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যেখানে দুর্নীতি লাগামহীন, যেখানে চুরি হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য সেইখানে বিশ্ব মন্দার কথা বলে কোনো লাভ নেই। বিশ্ব মন্দার পর আপনারা মানুষের জীবনকে দুঃসহ করে তুলছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে প্রত্যেকটি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চালের দাম, লবণের দাম, তেলের দাম সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। বিদ্যুতের দাম ২ বার তিন বার, চার বার, পাঁচবার… ১৫ বার বাড়িয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদ সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন বিএনপি মহাসচিব ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবেকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু জাপানকে কেন আমরা তো চিঠি দিয়েছি বহু দেশকে। এটা সত্য। এদেশে চলমান যে শাসনব্যবস্থা, আওয়ামী লীগ সরকার তারা যে গণতন্ত্রকে ধবংস করে মানুষের ওপরে অন্যায় অত্যাচার করে, দুর্নীতি-লুটপাটের মধ্য দিয়ে মানুষের পকেট কেটে নিয়ে তারা দেশকে ধবংস করছে। তারা যে সম্পূর্ণ এনফোর্স ডিজএ্যাপিয়ারেন্স করে রাজনৈতিক কর্মীদেরকে হত্যা করছে, গুম করছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে প্রতিমুহূর্তে প্রতিনিয়ত- এই বিষয়গুলো তো অবশ্যই আমরা সারা পৃথিবীকে জানিয়েছি।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আহমেদ আজম খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, মুনির হোসেন, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, আবদুল হালিম মিঞা, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, যুব দলের মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলে এসকে জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, উলামা দলের কাজী আলমগীর হোসেন, মতস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, জাসাসের লিয়াকত আলী, জাকির হোসেন, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, ছাত্র দলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সরকারের দমনপীড়ন, বিদ্যুতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সদরে সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।