গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফার আন্দোলনে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি আসবে কিনা তা ভবিষ্যতে জনগণই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছি। দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রতিবাদে আমরা আবারো রাজপথে কর্মসূচি দেব।সামনে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি থাকবে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত নাই। ভবিষ্যতে আসবে কিনা এটা বলতে পারব না। প্রয়োজন বলে দেবে, প্রয়োজন বলে দেবে ভবিষ্যতে কী হবে? জনগণ যদি বলে এখন হরতাল চাকা বনধ, তখন হরতাল চাকা বনধ হবে। জনগণ বলবে। আমরা তো বলছি শান্তিপূর্ণ, একেবারে পিসফুল। আমরা সবসময় পিসফুল প্রোগ্রাম চাচ্ছি-আমরা বিশ্বাস করি এটাতে।
হরতালের কর্মসূচির বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মধ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সমস্যাটা ওই জায়গায়। এর আগে আমি অনেকবার বলেছি আপনারা আন্দোলন বলতেই ওইটা (হরতাল-অবরোধ) বুঝেন। সমস্যাটা ওইটা আর কি- এটা ঠিক না। আপনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখেন। কয়টি ওখানে হরতাল হয়? হরতাল হয় না। আন্দোলন হয়। রাস্তায় লোক নামে, লক্ষ লক্ষ লোক হেঁটে যায়। ভারতজুড়ে প্রোগ্রাম করল কংগ্রেস। হাঁটল ১৪৯ দিন ধরে, হাঁটছে.. এগুলো তো আন্দোলন।
তিনি বলেন, সরকারি দল তো অলিখিতভাবে, অঘোষিতভাবে হরতাল দেয়। আমরা যখন বিভাগীয় সমাবেশ করেছিলাম তখন তারা তিন আগে থেকে হরতাল দেয়, সব বন্ধ করে দেয়, রাস্তা-ঘাট, বাস-ট্রাক, স্টিমার-লঞ্চসহ পরিবহন।১০ দফার চলমান আন্দোলন কোন পথে যাবে, কোন পর্যায় যাবে তা ভবিষ্যতে বলে দেবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল, ভাঙচুর করেছিল সেটা আপনারা জানেন। তবে আমরা এটা মনে করি না, আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের পরাজিত করব।
আওয়ামী লীগকে পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। আবারো তারা ইউনিয়ন পর্যায়েও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে করে আওয়ামী লীগের যে মূল চরিত্র সেটা উন্মোচিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে সন্ত্রাসের দল, আওয়ামী লীগ খুব ভালো সন্ত্রাস। এটা বলতে দ্বিধা নেই তারা সন্ত্রাস, ত্রাস সৃষ্টি করা, ভয় দেখানো, আক্রমণ করা, হামলা করা তারা অত্যন্ত পারদর্শী। তো ওইভাবে তারা আবারো আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে নসাৎ করার জন্য পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে।
এই পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে তারা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চেষ্টা করছে একটা অনিশ্চয়তার দিকে বাংলাদেশকে নিতে যেতে। আমি আহ্বান জানাচ্ছি আওয়ামী লীগকে তারা ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আওয়ামী লীগ প্রথম থেকে উসকানি দিয়ে, হুমকি দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে সেই সংঘাত এড়িয়ে চলেছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কামরুজ্জামান রতন, নাজিম উদ্দিন আলম, মাহবুবুল হক নান্নু ও মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন





