সরকার পন্থী অন্তত ১২-১৫ টি ইসলামি দলের জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রের কন্ফারেন্স হলে আয়োজিত এক সভায় জোট গঠনের প্রক্রিয়া উঠে আসে। ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি লায়ন এম এ আউয়ালের সভাপতিত্বে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ইসলামী দল ও সমমনা দলের বৃহত্তর ঐক্য এখন সময়ের দাবি শীর্ষক মতবিনিময় সভা জোট গঠনের এই প্রয়াস ব্যক্ত করা হয়।
সভায় সাবেক এমপি লায়ন এম এ আউয়াল বলেন, আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষকে যাতে ভালো রাখতে পারি দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে দেশের মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আজকে সময়ের দাবী এই ঐক্য সৃষ্টি করা। জামায়াত জঙ্গিবাদ এবং উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাশাপাশি যে দুর্নীতি আজকে সমাজে রন্ধে রন্ধে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে, দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক করা হচ্ছে। আজকের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হবে। সরকারকে বাজার সিন্টিকেট বন্ধ করতে হবে। সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করতে হবে, এই দ্রব্যমূল্যকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে এজন্য প্রত্যেকটি বাজারে সরকার যেমন মনিটরিং এর ব্যবস্থা করে। এবং মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সেই ব্যবস্থাটি যেন করে সেই দাবি করছি। আমাদের পূর্বের যে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স সেটাকেই আমরা ষ পূর্ণ গঠন করতে যাচ্ছি। সবাই বলেছেন এজন্য একটা ঘোষণা দরকার। আমরা দ্রুতই একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করব। সবার সাথে বসবো বসে আলোচনা করব। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র নির্বাচন না, সাধারণ মানুষের যে সমস্যা গুলো সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। রাজপথেও থাকতে হবে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আমরা মদিনা সনদ অনুযায়ী একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের সকল অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ সৃষ্টি করার জন্য কাজ করব।
বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট’র চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা বলেছিলাম আমাদের নিজের পায়ে হাটবো। কিন্তু এখন জাতীর প্রয়োজনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি, ২০০৫ সাল থেকে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে থেকে। মহাজোট নামটা আমার মুখ থেকেই এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ যা করে আমরাও যদি তাই করতাম তাহলে আমরা আওয়ামী লীগই হতাম। মন্ত্রী হওয়ার জন্য চিন্তা করি নাই। আমি চেয়েছিলাম একটা শক্তি। যারা ন্যায়কে ন্যায় বলবে। অন্যায় কে অন্যায় বলবে। দুর্নীতিকে দুর্নীতি বলবে। কালা কে কালা বলবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমরা টিকে থাকার সংগ্রামে সব সময় ঐক্য ধরে রাখতে পারি না।আজ সমমনা ইসলামি দল গুলোকে এনেছেন, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন উগ্রবাদী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে। উগ্রবাদী শুধু ইসলামি দল নয়, উগ্রবাদী বাম, জামায়াতও আছে তাদের নিষিদ্ধ করত্র হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভায় সূচনা বক্তব্য রাখবেন গণতান্ত্রিক ইসলামিক পার্টির মহাসচিব সাবেক পিপি এডভোকেট মো: নূরুল ইসলাম খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জনদলের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা হারিসুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, দেশপ্রেমিক জনতা দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন খান, পিপলস জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ড এম হায়দার আলী, তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খান, তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব কবি রোকসানা আমীন সুরমা, দেশপ্রেমিক জনতা দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন খান, পিপলস জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ড এম হায়দার আলী, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খান, তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব কবি রোকসানা আমীন সুরমা, ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মাসুদ আহম্মেদ এবং মো.ওমর ফারুক বাংলাদেশ তরীকত ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মুফতি মেহেদী হাসান বুলবুল, সাবেক রাষ্ট্র দূত ড. নীম চন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।





