আগের সব রেকর্ড ভেঙে লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে রডের দাম। এতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারাও। নির্মাণ মৌসুমের সময়েই এবার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত রড ও সিমেন্টের বিক্রি কমে গেছে। প্রতিবছর (জানুয়ারি-মার্চ) নির্মাণ মৌসুমের সময় সবচেয়ে বেশি রড ও সিমেন্ট বিক্রি হয়। উৎপাদক ও বিক্রেতারা বলছেন, এর আগে কখনোই লাখ টাকায় রড বিক্রি হয়নি।
ক্রমাগত রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের খরচও বাড়ছে। বাড়তি দাম তুলতে না পেরে সরকারি নির্মীয়মাণ প্রকল্পের কাজ ফেলে রাখছেন ঠিকাদাররা। বেসরকারি নির্মাণকারী বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চাচ্ছে না। পুরনো কাজ নিয়েই তারা এখন বিপাকে আছে বলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।
রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ডলার সংকটে ঋণপত্র খোলা নিয়ে জটিলতার কারণে স্ক্র্যাপ বা পুরনো জাহাজ আমদানি একেবারেই কমে যাওয়া, ডলারের বিনিময়মূল্য বেশি থাকা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, যার প্রভাব এরই মধ্যে দেশের বাজারে পড়েছে।
রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, কুড়িলসহ বিভিন্ন এলাকার রড-সিমেন্টের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিএসআরএম ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে এক লাখ দুই হাজার থেকে এক লাখ আড়াই হাজার টাকায়। জিপিএইচ ইস্পাত ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে এক লাখ এক হাজার টাকায়। এ ছাড়া একেএস ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন এক লাখ এক হাজার টাকা, আরএসএম ব্র্যান্ডের রড বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা, আকিজ ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন ৯৮ হাজার টাকা, আরআরএম ব্র্যান্ডের রড টন ৯৭ হাজার টাকা, এসএস ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৯৬ হাজার টাকায়।
এর পাশাপাশি দাম বাড়ায় এখন ৫০০ টাকার নিচে কোনো ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা বিক্রি হচ্ছে না। স্ক্যান সিমেন্ট বস্তা ৫৬০ টাকা, শাহ স্পেশাল বস্তা ৫৩০ টাকা, বসুন্ধরা সিমেন্ট বস্তা ৫৩০ টাকা, বেঙ্গল সিমেন্ট বস্তা ৫২০ টাকা, ক্রাউন সিমেন্ট বস্তা ৫৩০ টাকা ও সুপাক্রিট সিমেন্ট বস্তা ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।





