তুলার চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি

দেশে তুলার চাহিদা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন বাড়াতে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চেষ্টার কমতি নেই। এর পরও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন মাত্র ৩ শতাংশ। তুলার নতুন জাত উদ্ভাবিত হলেও জমি ও মাঠ পর্যায়ে লোকবলসংকটের কারণে বেশি এগিয়ে যেতে পারছে না তুলা উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৮০ লাখ বেল (১৮২ কেজিতে এক বেল) তুলার চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র দুই লাখ বেল। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদন ১৬ হাজার বেল। দেশের তুলা উৎপাদনের অন্যতম এলাকা যশোর, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল।

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিবছর বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এদিকে তুলার উৎপাদন বাড়াতে বোর্ড ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, ২০২১ সালের মধ্যে এক লাখ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করা হবে। এই সময়ে তারা পাঁচ থেকে ছয় লাখ বেল আঁশতুলা উৎপাদন করার আশা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি বোর্ড। তারা নির্ধরিত বছরে এসে মাত্র ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করতে পেরেছে। আর উৎপাদিত হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার বেল আঁশতুলা। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে আবারও নতুন করে লক্ষ্য ঠিক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ হেক্টর জমি তুলা চাষের আওতায় আনা হবে। কিন্তু জমিসংকট, লোকবলের অভাব এই লক্ষ্য কত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন আহমদ জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত তুলা চাষ সম্প্রসারণে অর্থায়ন করা হয়। ওই অর্থবছরে ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে এক লাখ ৭৬ হাজার বেল আঁশতুলা উৎপাদিত হয়। এই প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় লবণাক্ত জমিতে সমভূমি জাতের তুলার উৎপাদনে প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষামূলক চাষ করা হলেও পরবর্তী সময়ে লোকবলসংকটের কারণে আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের একটি গবেষণাকেন্দ্র ও খামার রয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বালাঘাটা এলাকায়। এই কেন্দ্রে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন মং সা ন্যু। তিনি জানান, এই কেন্দ্রে শুরুর দিকে তিনজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, তিনজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও একজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯৭ সাল থেকে কমতে কমতে এখন দুইজনে এসে ঠেকেছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ের লোকবলসংকট তো রয়েছেই। লোকবলসংকটের কারণে অগ্রগতিমূলক অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সুবীর কুমার বিশ্বাস জানান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ সারা দেশে চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়, ১৩টি জোনাল কার্যালয়ের অধীনে ১৯৫টি ইউনিট এবং পাঁচটি গবেষণা প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও খামার রয়েছে। সবার ওপর একটি প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এসব কার্যালয়ে ৮৮০ জনের জায়গায় মাত্র ৫৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সম্প্রতি ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ গত বছর ৪০৮ কোটি পাউন্ড তুলা আমদানি করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয় ৪০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৯৭৪ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। তার মধ্যে ৭১ শতাংশ বা ৬৯১ কোটি ডলারের পোশাকই কটনের তৈরি। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর সারা বিশ্ব থেকে যে পরিমাণ কটন পোশাক আমদানি করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কটন পোশাকের অন্যতম শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে।