আর্জেন্টিনার তরুণ উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি বর্ণবাদী ও অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তার ওপর যে শাস্তি আরোপ করেছিল, সেটি বহাল রেখেছে ফিফা, যার ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তিনি অন্তত প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
ঘটনাটি ঘটে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেনফিকার এই ২০ বছর বয়সী ফুটবলারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মুখ ঢেকে গালি দেন, যাতে বিষয়টি সরাসরি শনাক্ত না করা যায়।
পরবর্তীতে উয়েফা তাকে মোট ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে, যার মধ্যে তিন ম্যাচ স্থগিত শাস্তি হিসেবে রাখা হয়। তবে তদন্ত শেষে ফিফা সিদ্ধান্ত দেয় যে শাস্তির প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কার্যকর হবে। এর ফলে বিশ্বকাপেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।
ফলে আর্জেন্টিনা দলে সুযোগ পেলেও বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে প্রেস্তিয়ান্নিকে। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি এখনো তাকে মূল স্কোয়াডে রাখবেন কিনা, তা নিশ্চিত করেননি।
তদন্ত চলাকালে কিলিয়ান এমবাপ্পে সাক্ষ্য প্রদান করেন বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় স্প্যানিশ ভাষায় বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল, যদিও পরে খেলোয়াড়টি কিছু অপমানজনক মন্তব্যের কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে, ঘটনাটির পর ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে অপমান করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে।
যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ না পান, তবে বাকি শাস্তি আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ভোগ করতে হবে এই তরুণ ফুটবলারকে।





