রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ওসির সামনে নির্যাতন

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভিতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩ জুন) রাত ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করেছে। তারা হলেন, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করে। রাত ২ টার দিকে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নির্দেশে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে, ডিসি (ক্রাইম) মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতোয়ালী সুকুমার রায়কে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মারধরের শিকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাকিবুল ইসলাম দাবি করেছেন, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে বেধরক মারধর করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার কেসি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়।

এ সময় হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘এখানে ওসি, এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মারলো। বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, বিএনপির একজন কর্মী। তারপরেও আমরা তারা আমাকে মেরে চোখটা কিরকম করল, মাথায় দুই জায়গায় মারছে। বন্দুক দিয়ে মারছে। আমার ফোন দুইটা কেড়ে নিছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদীর মত রয়েছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।’ পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা থামান। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কাপড়ে রক্তের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ভাই, অনেক সময় আম ছিলতে গিয়েও তো রক্ত বের হয়’।