দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবারের ওই ভূমিকম্পে বহু বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তুপ থেকে এখন পর্যন্ত তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমিকম্পটি জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণে সমুদ্রের নিচে আঘাত হানে। এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার।
যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬.৫।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এবং এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস সিটিতে একটি শপিং সেন্টারের ভেতরে থাকা জোলিবি শাখাসহ পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্য একটি জায়গায় একটি খালি স্কুল ভবন ধসে পড়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী চিৎকার করে বলেন, “হে ঈশ্বর, এটি সত্যিই ধসে পড়েছে! ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে!”
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্ক কেন্দ্র জানায়, আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান এবং পাপুয়া নিউ গিনির উপকূলে সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
পুলিশ মেজর রোল্যান্ড কাতোবুরান এএফপিকে জানান, আলাবেল এলাকায় একটি দেয়াল ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের হতাহতের ঘটনা রয়েছে। একটি দেয়াল তাদের ওপর ভেঙে পড়ে।” তিনি আরও জানান, কিছু পুলিশ স্টেশনে ফাটল দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
জেনারেল সান্তোস সিটির পুলিশ সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন আলাদাভাবে আরও একজনের মৃত্যু এবং চারজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু এখন বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়, কারণ আমরা উদ্ধারকাজে ব্যস্ত।”
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফারডিনাল্ড মারকোস ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ক্লাস স্থগিত করেন এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এখনই উঁচু স্থানে যান। অপেক্ষা করবেন না। আপনার জীবন রেখে যাওয়া কোনো কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
কিয়াম্বা নামের উপকূলীয় শহরে, যা ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে সরে গেছে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আগ্রিপিনো ডাকেরা বলেন, “এখন পর্যন্ত জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ উঁচু স্থানে চলে গেছে। উপকূলের সব গ্রামকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
জেনারেল সান্তোস সিটির বিমানবন্দর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই ভূমিকম্পের কারণে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়, তবে পরে জাকার্তার আবহাওয়া সংস্থা সেই সতর্কতা তুলে নেয়।
জাপান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বড় অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করে, যেখানে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
ফিলিপাইন পৃথিবীর এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে প্রায় প্রতিদিন ভূমিকম্প হয়—এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অব ফায়ার”-এর অংশ, যা জাপান থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত।
পূর্ব মিন্দানাওয়ে গত অক্টোবরে ৭.৪ ও ৬.৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে অন্তত ৮ জন নিহত হন।
এর আগে ৬.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে ৭৬ জন নিহত হন এবং সেবু প্রদেশে ৭২ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী।





