এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানি হ্যাকার গ্রুপের

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই- এর ড্রোন হ্যাক করার দাবি করেছে ইরানের একটি হ্যাকার গ্রুপ। এর ফলে চলমান ফিফা বিশ্বকাপে সাইবার হামলার শঙ্কা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর, টাইমস অব ইসরায়েল’র।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে জেরুজালেম ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

এতে বলা হয়- ‘হান্দালা’ নামের এক ইরানি হ্যাকার গ্রুপের বিবৃতি প্রকাশ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। হ্যাকারদের দাবি- তারা কয়েক মাস ধরে’ এফবিআই-এর ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা প্রতিটি ছবি এবং প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্যের অ্যাক্সেস বা নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। হ্যাকারদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী কাজে ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলোতে মুখ শনাক্তকরণ ও নম্বরপ্লেট স্ক্রিনিং প্রযুক্তি রয়েছে।

এদিকে, হ্যাকাররা হুমকি দিয়ে বলেছে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করুন, আমরা কিছু দলকে একেবারেই পছন্দ করি না। মনে রাখবেন এফপিভি সব জায়গায় আছে। কখন-কোনটি আপনার দলের বাসের কাছে চলে আসে আপনি জানতেও পারবেন না।

মূলত, বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে অনুমোদনহীন বিমান ও ড্রোন প্রতিরোধে এফবিআই এই ড্রোনগুলো মোতায়েন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত আসরটির স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ইভেন্টগুলোর ওপর ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে।

পাশাপাশি অবৈধ ড্রোন কার্যক্রম মোকাবিলায় স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ফেডারেল অনুদানের অংশ হিসেবে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর ইরানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

হান্দালা গ্রুপ হ্যাক করা ড্রোন থেকে নেওয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশের দাবি করলেও সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ সেই দাবি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা ভিডিওগুলোর একটি আসলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৈরি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের প্রচারণামূলক ভিডিও, যা একটি মার্কিন পুলিশ বিভাগের টর্নেডো ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

এর আগে, গত মার্চ মাসে হান্দালা গ্রুপ এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার দাবি করেছিল এবং অনলাইনে তার ব্যক্তিগত ছবি ও অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করেছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই হ্যাকার গোষ্ঠীর সদস্যদের শনাক্ত করতে সহায়তা করলে ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে।