বিশ্বকাপের ১২ ঘন্টা যেন এক অদ্ভুত সংখ্যার গল্প লিখে গেল-‘২’! লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড-তিনজনই যেন একই সুরে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় খুলে দিলেন।
একজন যেখানে থেমেছেন, আরেকজন ঠিক সেখান থেকেই শুরু করেছেন নিজের গল্প। সেই ধারাবাহিকতার শেষ অধ্যায়ে আলো ছড়ালেন হালান্ড, আর তারই জোড়া গোলে নরওয়ে পৌঁছে গেল নকআউট পর্বে!
ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রঝড়ের কারণে ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলেও ফুটবলের উত্তাপ থেমে থাকেনি এক মুহূর্তের জন্যও। একই সময়ে নিউজার্সির মাঠে শুরু হওয়া নরওয়ে–সেনেগাল ম্যাচ যেন হয়ে উঠেছিল রাতের সবচেয়ে নাটকীয় লড়াই।
আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণের দোলাচলে ভরা সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় নরওয়ে ৩-২ ব্যবধানে। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্লিং হালান্ড, যার জোড়া গোলই বদলে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য!
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরে আসা নরওয়ের জন্য এই জয় শুধুই তিন পয়েন্ট নয়, বরং এক প্রজন্মের অপেক্ষার প্রতিদান। শুরু থেকেই ম্যাচে দুই দলই একে অপরকে চাপে রাখে। কখনও সেনেগাল, কখনও নরওয়ে-গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাব আর দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে খেলায় জমে ওঠে উত্তেজনার মৃদু আগুন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ মিনিটে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় নরওয়ে, আর সেই গোলেই প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার গতি আরও বেড়ে যায়। ৪৮ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত অ্যাসিস্টে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। মনে হচ্ছিল নরওয়ে সহজ জয় পেতে যাচ্ছে, কিন্তু সেনেগালও লড়াই ছাড়েনি। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে সাদিও মানের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইসমাইলা সার, ম্যাচে ফেরে আফ্রিকার দলটি।
কিন্তু হালান্ডের গল্প তখনও বাকি ছিল। ৫৮ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠে তার গোল করার ক্ষমতা। মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। সেই মুহূর্তে যেন পুরো স্টেডিয়াম বুঝে যায়-এই ম্যাচের কেন্দ্র এখন একটাই নাম, আর্লিং হালান্ড।
শেষ দিকে সেনেগাল আরেকবার লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে। যোগ করা সময়ে নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে আবারও গোল করেন ইসমাইলা সার, ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। তবে শেষ বাঁশির পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাসে স্পষ্ট হয়ে যায়, ইতিহাসের পাতায় আরেকটি বড় অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
এই গ্রুপে ফ্রান্সও নকআউট নিশ্চিত করেছে, ফলে শেষ ম্যাচটি এখন হয়ে উঠেছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের লড়াই। অন্যদিকে সেনেগাল ও ইরাকের জন্য পথ প্রায় শেষের দিকে, কারণ পয়েন্ট টেবিলে তারা এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
এই রাতটা ছিল শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং একাধিক গল্পের সমন্বয় মেসি-এমবাপ্পের ছায়া পেরিয়ে হালান্ডের উত্থান, বজ্রঝড়ের মধ্যেও থেমে না থাকা ফুটবল, আর ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে নরওয়ের নতুন স্বপ্নযাত্রা!





