শেষবার লিখেছিলাম, এখনও অনেকটা সময় আছে: প্রিয়াঙ্কা

শুটিং চলাকালে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরছে স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে। স্বামীর মৃত্যুর আড়াই মাস পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের অনেক পরিকল্পনাই এখন অপূর্ণ থেকে গেছে। আর সেই অপূর্ণতার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় রাহুলকে পাঠানো শেষ বার্তাটি।

প্রিয়াঙ্কা জানান, ছেলে সহজকে নিয়ে গরমের ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। বান্ধবগড়ে ভ্রমণের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেই প্রসঙ্গেই রাহুলকে শেষবার বার্তা পাঠিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘ঠিক আছে, এখনও অনেকটা সময় রয়েছে, রিসার্চ করে নেওয়া যাবে।’ এখন সেই কথাটিই বারবার মনে পড়ছে তাঁর।

প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, “আসলে আমরা ভাবি অনেকটা সময় আছে। কিন্তু সত্যি বলতে সময় থাকে না। সময় থাকতে থাকতে সব কিছু করে নেওয়া উচিত।”

গত ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিংয়ের ফাঁকে পানিতে নেমে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে টালিউড অঙ্গনে।

রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা একপর্যায়ে শুটিং বন্ধ রেখে আন্দোলনও করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি।

সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁদের ১০ বছর বয়সী ছেলে সহজও গান, কম্পিউটার গেমস এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। পরিবারের সদস্যরাও তাকে সময় দিচ্ছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, প্রথমে রাহুলের মাকে এবং পরে ছেলেকে মৃত্যুসংবাদ জানাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এর কোনো ক্লোজার হয় না। আমাকে শক্ত থাকতেই হয়েছে।”

রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আইনি কারণে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না। তবে তিনি আশাবাদী যে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। তাঁর মতে, শুধু পরিবারের নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রিরই জানার অধিকার রয়েছে কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

রাহুলের অকালপ্রয়াণের শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা। তবে কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর পরিবার।