বিশ্বকাপে রূপকথা লিখল আটলান্টিকের ছোট্ট দেশ

বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের গল্প, আর ২০২৬ আসরের সবচেয়ে আলোচিত রূপকথা লিখছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে! জনসংখ্যা ছয় লাখেরও কম, ফুটবল অবকাঠামো কিংবা তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড-কোনো দিক থেকেই যাদের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে তুলনা চলে না, সেই দলই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ!

তিন ম্যাচে একটিও জয় না পেলেও তিনটি ড্র-ই তাদের জন্য ইতিহাস গড়ার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিউস্টনে আজ গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে কেপ ভার্দে নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট। তিন ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে তারা। অন্যদিকে একটি হার ও দুটি ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সৌদি আরবকে।

তবে কেপ ভার্দের এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচেই। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকে প্রথম ম্যাচে তারা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে দলটি। টানা দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায়ের পর সৌদি আরবের সঙ্গে আরেকটি ড্র তাদের ইতিহাসের দরজা খুলে দেয়।

গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি কেপ ভার্দের জন্য হতে যাচ্ছে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এক সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় অপরিচিত ছিল কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা দেশটি অনেকের কাছেই এখনও পরিচিত ‘কেপ ভার্দে’ নামে। তবে ২০১৩ সালে দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পর্তুগিজ নাম ‘কাবো ভের্দে’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ‘কাবো ভের্দে’ শব্দের অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’। এখন সেই নামই ধীরে ধীরে ফুটবল বিশ্বের নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

আজকের এই সাফল্য অবশ্য রাতারাতি আসেনি। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি পর্তুগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছিল কেপ ভার্দে। সেই জয় ছিল কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যের ঘোষণা।

এরপর ধারাবাহিক উন্নতির পথ ধরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া এবং অভিষেক আসরেই নকআউটে ওঠা-সব মিলিয়ে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়!

এদিকে গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্পেন উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্বে উঠেছে। আর কেপ ভার্দে রানার্সআপ হয়ে নিশ্চিত করেছে নকআউট। এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ মায়ামির দিকে। কারণ সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে এমন এক দল, যারা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে-বিশ্বকাপে নামের চেয়ে লড়াইয়ের মানসিকতাই অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে!