বয়স বাড়লেই কেন নারীদের নিয়ে প্রশ্ন?

বয়স বাড়া জীবনের একটি স্বাভাবিক ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। তবে সমাজে নারী ও পুরুষের বয়সকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ঈশা কোপ্পিকর। তাঁর মতে, একজন পুরুষের বয়স বাড়লে তাঁকে অভিজ্ঞ, পরিণত ও আরও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু একজন নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চেহারা, সৌন্দর্য এবং বয়স নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন ঈশা। তিনি বলেন, শুধু সমাজেই নয়, চলচ্চিত্র জগতেও বয়সভিত্তিক এই বৈষম্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেক সময় বয়সে অনেক বড় কোনো অভিনেতার সঙ্গে কম বয়সী অভিনেত্রীর জুটি দর্শক সহজেই মেনে নেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে বয়সে বড় কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে কম বয়সী অভিনেতাকে দেখা গেলে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, এই মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। কারণ বয়স একজন মানুষের যোগ্যতা, প্রতিভা কিংবা ব্যক্তিত্বের মানদণ্ড হতে পারে না। বরং সময়ের সঙ্গে একজন মানুষের অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বয়সকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে তাঁদের অর্জন, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসকে মূল্যায়ন করা উচিত।

ঈশা আরও বলেন, মুখের বলিরেখা কিংবা বয়সের ছাপ কোনো ত্রুটি নয়। বরং এগুলো একজন মানুষের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, সাফল্য ও শিক্ষার প্রতিফলন। তাই শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের ভিত্তিতে নারীদের বিচার করার প্রবণতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তাঁর আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, মানবিক গুণাবলি এবং জীবনবোধে প্রকাশ পায়।

তিনি মনে করেন, বয়স নিয়ে বিদ্রূপ বা কটূক্তি করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ বয়স সবারই বাড়বে—এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই প্রতিটি বয়সের নারীকে সম্মান করা এবং তাঁদের অবদানকে যথাযথ মূল্য দেওয়া সমাজের দায়িত্ব। নারীদের বয়স নয়, তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও ব্যক্তিত্বই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমেই নারী-পুরুষের প্রতি সমান সম্মান ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।