ভুয়া সেন্সর সনদ ঘিরে নতুন বিতর্কে বিজয়ের ‘জনা নায়াগান’

তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জনা নায়াগান’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার কারণ সিনেমার ট্রেলার বা মুক্তির তারিখ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া সেন্সর সনদ। ওই সনদে দাবি করা হয়েছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ড (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী সার্টিফিকেট দিয়েছে। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই বিষয়টি গুজব বলে প্রমাণিত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফ্যান অ্যাকাউন্টের পোস্ট থেকে। সেখানে সিনেমাটির কথিত সেন্সর সনদের ছবি প্রকাশ করা হয়। ওই নথিতে উল্লেখ ছিল, ছবিটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন ঘণ্টা এবং বিভিন্ন সংলাপ ও সহিংস দৃশ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে সেন্সর বোর্ড। এমনকি কিছু রক্তাক্ত দৃশ্য, নির্দিষ্ট চরিত্রের হত্যাকাণ্ডের অংশ এবং কিছু অশালীন শব্দ বাদ দেওয়ার কথাও লেখা ছিল।

পোস্টটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই তথ্যটিকে সত্য বলে ধরে নিলেও পরে সংশ্লিষ্ট ফ্যান অ্যাকাউন্ট পোস্টটি মুছে ফেলে। একই সঙ্গে তারা জানায়, আগে প্রকাশিত সেন্সর সনদটি প্রকৃত নয় এবং ভুল তথ্য শেয়ার করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

এদিকে সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জনা নায়াগান’ এখনো সিবিএফসির চূড়ান্ত ছাড়পত্র পায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সেন্সর সনদের সত্যতা নেই বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরিচালক এইচ. ভিনোথ নির্মিত এই সিনেমাটি দীর্ঘদিন ধরেই সেন্সর-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আলোচনায় রয়েছে। প্রথমে নির্ধারিত সময়ে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মুক্তির সূচিতে পরিবর্তন আসে। প্রযোজনা সংস্থা প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ছবিটি পুনরায় জমা দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে সময় লাগছে বলে জানা যায়।

এদিকে দর্শকদের কাছে ‘জনা নায়াগান’ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটিকে থালাপতি বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। অভিনয় ছেড়ে পূর্ণসময় রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। তাই সিনেমা-সংক্রান্ত যেকোনো খবরই দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। তবে ভুয়া তথ্যের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।