ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া ও নেদারল্যান্ডসের সাথে ইউক্রেনের ত্রিদেশীয় ড্রোন চুক্তি

রুশ বাহিনীর সাথে চলমান যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া ও নেদারল্যান্ডসের সাথে নতুন তিনটি ‘ড্রোন চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো (NATO) সম্মেলনের ফাঁকে এই নতুন চুক্তিগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই তিনটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশের সাথে ইউক্রেনের মোট নয়টি ড্রোন চুক্তি সম্পন্ন হলো বলে তিনি জানান।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ডেনমার্কের সাথে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান এবং অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনের মাটিতে যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের প্রস্তাব দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ডেনমার্ক। ডেনমার্ক এখন ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে পরীক্ষিত আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যা উভয় দেশের প্রতিরক্ষার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরুর প্রাথমিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা বেশ সীমিত ছিল। তবে বিগত চার বছরের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও কার্যকর ড্রোন শিল্প গড়ে তুলেছে, যা বর্তমানে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূমিকা রাখছে।

ন্যাটো সম্মেলনের প্রথম দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য হলো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করা।

তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার দুটি বড় ধরনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। গত সোমবারের সর্বশেষ রুশ হামলায় কেবল কিয়েভেই অন্তত ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।