আবার অভিনয়ে ফিরতে চান এই সময়ের ব্যস্ত ও সফল ডিজে সুমী। ইভেন্ট, করপোরেট, ক্লাব ও ওয়েডিং শো নিয়েই এখন দারুণ ব্যস্ত তিনি। কখনো দিনের আলো, আবার কখনো আধো আলো-আধো অন্ধকারে হেভি মেটাল মিউজিকের তালে মেতে থাকেন। নিজে নাচেন, অন্যকে নাচান। এ এক অন্য জীবন। আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ভেজা ভেজা কষ্টগুলো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবসময় হাসিমুখে ও উচ্ছ্বসিত থাকতে হয়। ঠোঁটের কোণের হাসি আর তার তৈরি করা মিউজিকের তালে হারিয়ে যায় সামনে থাকা সব তরুণ-তরুণী। কারণ মিউজিকের ওঠানামা, মেলোডি কিংবা পুরো পরিবেশ—সবকিছুই তখন তার নিয়ন্ত্রণে।
জীবনসঙ্গী হিসেবে যাকে বেছে নিয়েছেন, তিনিও একজন ডিজে। শো শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরা তার জীবনেরই অংশ। স্বামীও ডিজে হওয়ায় সবকিছু মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে বেশ ভালোই আছেন তিনি। অবসর সময় কাটে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে। তার পুরো নাম সুলতানা রাজিয়া সুমী। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। একটি নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন।
মিডিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন ও আগ্রহ তার অনেক আগে থেকেই। সে কারণেই প্রস্তুতিটাও ছিল। ২০০২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে নাচ ও অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ২০০৩ সালে অভিনয়ে সম্পৃক্ত হন। কাজ শুরুর পর থেকেই চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনে দারুণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এভাবেই কেটে যায় টানা সাত বছর।
ডিজে সুমীর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র চিত্রপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘মায়ের স্বপ্ন’। এরপর উত্তম আকাশ, সায়মন তারিকসহ অনেক নির্মাতার ছবিতে কাজ করেছেন। টেলিভিশনে বেশি কাজ করেছেন নজরুল কোরেশী ও দেবাশীষ বড়ুয়া দ্বীপের পরিচালনায়। সে সময় শাহ সিমেন্ট, রূপায়ণ গ্রুপ ও ডোরেমন কেকের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে আলোচনায় আসেন।
হঠাৎ করেই ২০১০ সালে যুক্ত হন ডিজে পেশায়। এই পেশা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, অভিনয়ে সময় দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে অভিনয়ে দীর্ঘ বিরতি পড়ে।
এখন আবার অভিনয়েই ফিরতে চান। অভিনয়ই এখন তার ধ্যান-জ্ঞান। এ জন্য পুরোনোদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। ডিজে সুমী বলেন, “মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই।”
মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে কোনো কষ্টের অভিজ্ঞতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজে সুমী বলেন, “মিডিয়ার কাজ করতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। কোনো কাজই আমার কাছে কষ্টের মনে হয় না, বরং কাজের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।”





