বলিউডে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণা নিয়ে বরাবরই নানা আলোচনা রয়েছে। এবার সেই প্রসঙ্গেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী অঞ্জলি আনন্দ। তার মতে, এখনো অনেক সময় একজন অভিনেত্রীর অভিনয় দক্ষতার চেয়ে তার শারীরিক গঠনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাজের সুযোগ পাওয়ার আগেই অনেকের নজর চলে যায় তার ওজনের দিকে।
জনপ্রিয় কমেডি সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধামাল’-এর চতুর্থ কিস্তিতে অভিনয় করেছেন অঞ্জলি আনন্দ। সিনেমাটিতে তিনি অজয় দেবগন, রিতেশ দেশমুখ, আরশাদ ওয়ার্সি ও জাভেদ জাফরিদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। ছবির একটি গানে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশংসার পাশাপাশি তাকে ঘিরে কিছু নেতিবাচক মন্তব্যও দেখা গেছে।
এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জলি জানান, সমাজে এখনো এমন একটি মানসিকতা রয়েছে যেখানে একজন নারীর যোগ্যতা বিচার করার আগে তার চেহারা বা শরীর নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি মনে করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।
অঞ্জলি বলেন, প্রচলিত নায়িকার ধারণার বাইরে থাকা নারীদের জন্য সিনেমায় আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র তৈরি করা দরকার। তার মতে, একজন শিল্পীর পরিচয় তার কাজ ও প্রতিভার মাধ্যমে তৈরি হওয়া উচিত, শারীরিক গঠন দিয়ে নয়।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, দর্শক যখন পর্দায় বিভিন্ন ধরনের মানুষকে দেখতে অভ্যস্ত হবেন, তখন সৌন্দর্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাও বদলাবে। একজন অভিনেত্রীর শরীর নয়, তার অভিনয় ক্ষমতা, চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা এবং পরিশ্রমই হওয়া উচিত মূল বিবেচনার বিষয়।
শুধু ওজন নিয়েই নয়, সমাজে বিভিন্ন কারণে মানুষকে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হয় বলেও মনে করেন অঞ্জলি। কারও গায়ের রং, চেহারা, চুল, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়েও অনেকে মন্তব্য করেন। তার মতে, এসব বিষয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল বা সমালোচনা নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নন অঞ্জলি। তিনি মনে করেন, নেতিবাচক মন্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দিলে তা আরও বাড়তে পারে। তাই নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ রাখাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অঞ্জলির বিশ্বাস, পরিবর্তন একদিনে আসে না। তবে নতুন ধরনের চরিত্র, ভিন্ন গল্প এবং বিভিন্ন শারীরিক গঠনের শিল্পীদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।





