শহীদ আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের ‘শহীদদের ইমাম’: নাহিদ ইসলাম

১৬ জুলাই শুধু ইতিহাসের একটি সাধারণ তারিখ নয়, বরং এটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের গতিপথ বদলে দেওয়ার দিন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে এক লহমায় বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মহিমান্বিত আত্মত্যাগ। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড নীরব দর্শক হয়ে থাকা কোটি জনতাকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের মতে, শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতাই ছিল আন্দোলনের মূল স্পিরিট।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব স্মরণ করে বলেন, ‘আবু সাঈদ মাঠ ছাড়েনি, সে তার জীবন দিয়ে কথা রেখেছে। বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য তার এই অবিচল অবস্থান পরবর্তী সময়ে সবাইকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আবু সাঈদকে আমি এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম মনে করি। সে ছিল রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক, তবে তার আত্মত্যাগ পুরো আন্দোলনের জন্য এক প্রকার স্পিরিচুয়াল বা আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব হয়ে উঠেছিল।’

একইভাবে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দুই হাত প্রসারিত করে দিয়ে আবু সাঈদের বুকে গুলি ধারণ করার সেই দৃশ্য বাংলাদেশের আপামর জনতাকে, বিশেষ করে তরুণদের আন্দোলনের রাজপথে জীবন দেওয়ার জন্য উদগ্রীব করে তুলেছিল। মানুষেরা সেই অভূতপূর্ব প্রেরণা নিয়েই পরবর্তীতে শহীদ হয়েছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, মানুষ ততদিন এই ১৬ জুলাই এবং শহীদ আবু সাঈদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণে রাখবে।’

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান আন্দোলনের শহীদদের যৌক্তিক বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি অতি দ্রুত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আজ হোক কিংবা কাল—এই বাংলাদেশকে আরও এক ভয়ঙ্কর ও অন্ধকার পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’