ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি আইন পাস এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনে প্রচলিত চর্চা থেকে সরে আসার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে- ‘কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়’। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর তা সাধারণত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ অথবা জনমত যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়।
কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই কিংবা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় নেয়নি। এমনকি সংসদ সদস্যদের হাতে বিলের অনুলিপি উত্থাপনের ঠিক আগে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, ফলে বিলটি যাচাইবাছাইয়ের বাস্তবসম্মত সুযোগও তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬-ও পূর্ব নোটিস ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে আনা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের একতরফা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এতে সংসদীয় নজরদারি ও জবাবদিহির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এ ধরনের নজির দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





