মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে গালাগালি, নারী হেনস্তা, মানহানি ও চরিত্রহননের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা আবিদ। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, আগের ‘গালিবাজদের’ জনগণ যেভাবে বিদায় দিয়েছে, বর্তমানের ‘গালিবাজদের’ও সেভাবেই বিদায় দেবে।
শুক্রবার (০৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার পজিশন খুব ক্লিয়ার ভাই, আমি ফ্রিডম অফ স্পিচে বিশ্বাস করি। সরকারের সমালোচনা করা যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম শর্ত। কেউ ফ্রিডম অফ স্পিচের অধিকারকে ব্যবহার করে নোংরামি, মানহানি, ক্যারেকটার এসাসিনেশন বা হ্যারেজমেন্ট করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াও হতে হবে স্বচ্ছ।
তিনি বলেন, তাকে কোন মামলায় কোন আইনে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তা জনগণের জানতে হবে। জনগণই এই ধরণের গর্হিত কাজের পর সামাজিক চাপ দেবে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য। এই প্রক্রিয়ায় আলাদা করে গ্রেফতারের পক্ষে কোনো সম্মতি উৎপাদন করার রাজনৈতিক কৌশলের প্রয়োজন হয়না। জনগণই সিদ্ধান্ত দেয়, কে কোন কথার জন্য কী ট্রিটমেন্ট প্রাপ্য।
আবিদের ভাষ্য, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে সব রাজনৈতিক গোষ্ঠী সেই পরিবর্তনকে একইভাবে নেয়নি। কেউ কেউ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘নতুন শিকারী রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অনলাইনে গালাগালি ও নারী হেনস্তার প্রসঙ্গ তুলে আবিদ বলেন, অনলাইনে গালি, নারী হেনস্তা, নারীদের নিয়ে চরম আপত্তিকর বক্তব্যকারীদের আপনি বারবার একই শ্রেণীভুক্ত হিসেবে আইডেন্টিফাই করতে পারবেন। তাদের ওই একই প্রোফাইল পিকচার, একই কভার ফোটো, একই ধরণের পোস্ট শেয়ার করা।
তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোশ্যাল স্পেসে এদেরকে ধরতে হবে। নাহলে একটা প্রজন্ম এই নষ্ট রাজনীতির ফাঁদে পড়ে যাবে। সিনিয়র-জুনিয়র রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবেনা। ফলাফলস্বরূপ দুটি বিচ্ছিন্ন পলেটিক্যাল জেনারেশন তৈরি হবে। আপনার বাসার শিশু-কিশোর, আপনার সন্তানের কাছে আস্তে আস্তে এসব ভাষা নরমালাইজড হয়ে যাবে। কারণ, রাস্তায় র্যান্ডমলি এ ভাষা শোনা আর পরিণত-শিক্ষিত মানুষের মুখে এ ভাষা শোনা এক নয়।
তিনি আরও বলেন, সেই ভিডিয়োতে কী ছিল, তা শুনে আমাদের রাজনৈতিক ভাবধারার মানুষদের কেমন অনুভূত হয়েছে সেসব ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা এই লেখায় নাহয় উহ্য থাকলো। শুধু এধরণের আচরনের রাজনৈতিক ফলাফলটাই এখানে বললাম। বাকি সিদ্ধান্ত আপনাদের।
নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আবিদ বলেন, কেমন রাজনীতিবিদ ভবিষ্যতে দেখবেন তা আপনারাই ঠিক করুন। আমাদের গায়ের চামড়া মোটা আছে। ১৭ বছর কম গালি খাইনি। সর্বশেষ এই মাপের বক্তব্য শুনেছিলাম আওয়ামীলীগের মন্ত্রী মুরাদের কন্ঠে। মনে হলো সেইদিন আবার ফিরে এসেছে তাদেরই মাসতুতো ভাইদের কন্ঠে। আগের গালিবাজদেরও জনগণ যেভাবে বিদায় দিয়েছে, এই গালিবাজদেরও সেভাবেই বিদায় দেবে। গালি দিয়ে কারো সম্মান ক্ষয় করা যায়না।
পোস্টের শেষাংশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানিত অবস্থানে ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সম্মানে বিদায় নিয়েছেন, তাদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানও সেই সম্মান নিয়েই রাজনীতি করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।





