ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের সুযোগ সীমিত: হুমায়ুন কবির

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার চার দিনের সফরের কর্মসূচি ও উদ্দেশ্য তুলে ধরতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। ম্যানহাটনে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সফরের প্রধান লক্ষ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ থাকার সম্ভাবনা কম।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে ভবিষ্যতে বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি। হুমায়ুন কবির জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের আগ্রহ জানিয়েছেন। এ বিষয়টি মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতাভুক্ত। দুই দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে বৈঠক আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি শিগগিরই তার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কোনোভাবে আলোচনায় আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সফরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুবই সীমিত। বরং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো, নেতৃত্ব এবং নীতিগত অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই হবে সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন বলেন, প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এবার অত্যন্ত ছোট পরিসরে সরকারি প্রতিনিধিদল নির্ধারণ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে সদস্য রয়েছেন ৩৩ জন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী, সীমিতসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন ব্যক্তিগত কর্মী থাকছেন।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থের সাশ্রয় এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার সফরসঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।