জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিতর্কিত যত কর্মকাণ্ড

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। যারা তাকে চেনেন, নামটি শুনলেই তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একগুচ্ছ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকে একের পর এক সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

কখনো সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে টক শো, কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কথা বলে আলোচনায় ছিলেন তিনি। আবার কখনো তার মতের অমিলকারীর ওপর মারমুখী হয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এমনকি ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে শবেমেরাজ ও ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিলে জনতা তাকে জুতাও নিক্ষেপ করেন।

এভাবে সারাজীবন একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেওয়া আখতারুজ্জামান গত বছর আলোচনায় আসেন জামায়াতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। বিশেষ করে দলটিতে যোগ দেওয়ার পর বিতর্কিত বক্তব্যে অতীতের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। তার বক্তব্য ঘিরে তৈরি হতে থাকে হাস্যরস। সবশেষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত এলাকায় তার আচরণের ভিডিও ভাইরাল হয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এবার আর শুধু সমালোচিত নয়, বিমানবন্দরে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারধরের অভিযোগে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বিতর্কের এই হোতা। তার ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, ব্যক্তি জীবনেও রুক্ষ স্বভাবের আখতারুজ্জামান সবসময় উগ্র মেজাজে থাকেন। কোনো কিছু তার মতের সঙ্গে না মিললে বা কেউ তার বিরোধিতা করলেই মারমুখী হয়ে ওঠেন। একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন উদ্ধত আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন আসনটি কেবল কটিয়াদী উপজেলা নিয়েই ছিল। এখন এ আসনে যুক্ত করা হয়েছে পাকুন্দিয়া উপজেলাকেও। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপিরও সভাপতি ছিলেন। একসময় বিএনপির রাজনীতি করলেও দলীয় শৃঙ্খলা-পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, উদ্ধত আচরণ, কথায় কথায় মারমুখী হওয়া, উল্টাপাল্টা বক্তব্যে পাঁচবার বহিষ্কার হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান।

তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৬ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ওয়াকআউট বর্জন করে সংসদে থাকা, টকশোতে বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি, মামলা ও ব্যাংকঋণের তথ্য গোপন করে শেখ হাসিনার দেওয়া বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে সমালোচনা, ওয়াজ মাহফিলে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থেকে শেখ হাসিনা সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা ইত্যাদি।

সবসময় বেফাঁস বক্তব্য দেওয়ার কুখ্যাতি রয়েছে এই রাজনীতিকের। বেফাঁস কথা বলতে বলতে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওয়াজেও রোষানলে পড়েন।

আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো জুতা নিক্ষেপ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনার ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির একটি পোস্টে এক যুবক ক্যাপশন দেন- ‘নষ্ট মস্তিষ্ক নিয়ে হুজুরের ভুল ধরতে গিয়ে উপস্থিত জনতার জুতার বৃষ্টির মুখে সাবেক এমপি মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জন।’

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আখতারুজ্জামান। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির বাইরে থাকা আখতারুজ্জামান তখন মনোনয়ন নিয়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। এদিকে শেখ হাসিনার বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে অংশ নেওয়া নিয়েও তিনি ছিলেন অন্যতম আকর্ষণ।

কখনো নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে হেরে জামানত বাজেয়াপ্তের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বিতর্কিত দ্বাদশ নির্বাচনে ‘ঘুমিয়ে থাকলেও জিতবেন’ বলে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসে বিশাল ব্যবধানে হেরে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে তার ছেলে ও ভাইকে নিজের দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী করে আলোচনায় আসেন। এ ছাড়াও টেলিভিশন টকশোতে সহ-আলোচকদের সঙ্গে একাধিকবার তার মারমুখী আচরণ ভাইরাল হয়েছে।