চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে ১৪ ফুট দীর্ঘ একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সাপটি নির্বিষ বার্মিজ অজগর। ইংরেজিতে এটি ‘Burmese Python’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেসের (থ্রিএসএ) সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও চবি শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, সাপটির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এক শিক্ষার্থী বিষয়টি আমাদের সংগঠন থ্রিএসএকে জানান। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থ্রিএসএ রেসকিউ টিমের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৪ ফুট লম্বা নির্বিষ অজগরটি উদ্ধার করেন।
সাপটি উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্পদংশন নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন সংগঠনটির সদস্যরা। তারা বলেন, সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে উল্টো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
থ্রিএসএর সদস্যরা বলেন, সর্পদংশন মানেই মৃত্যু নয়। সরকারি হাসপাতালে সর্পদংশনের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাপে কাটলে ওঝা বা প্রচলিত ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সাপ দেখতে পেলে সেটিকে ধরতে বা মারতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ারও আহ্বান জানান সংগঠনটির সদস্যরা। তাদের মতে, সাপ মেরে ফেলা সমস্যার সমাধান নয়; বরং সর্পদংশন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন এ এফ রহমান হলের রাস্তায় গ্রিন পিট ভাইপারের দংশনের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।





