প্রতিদ্বন্দ্বী ছোট আকারের ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের সব ধরনের বিজ্ঞাপন নিজেদের প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বিধিনিষেধের আওতায় চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের নিজস্ব বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত টিকটকের প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনকেও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মেটার মুখপাত্র ক্রিস স্ক্রো জানান, নিজেদের প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের অন্য কোনো প্রতিযোগী অ্যাপে সরিয়ে নিতে সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা মেটার নেই। তবে এই বিজ্ঞাপনী লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের তীব্র মতপার্থক্য। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতার পর মেটা অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু টিকটক মেটার শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন নিজেদের অ্যাপে দেখাতে অস্বীকার করায় এবং ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থেকে ইনস্টাগ্রামের লিংক সরিয়ে নেওয়ায় দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দূরত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সাধারণ বিজ্ঞাপনী যুদ্ধের অংশ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শর্ট-ভিডিওর বাজারের আধিপত্য ধরে রাখার এক কৌশলগত লড়াই। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার জন্য টিকটককে তাদের বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। ঠিক এমন এক সময়ে মেটার নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপ টিকটকের ইউজার রিটেনশন ও ডিজিটাল বিপণন কৌশলে বড় আঘাত হানতে পারে। ব্যবহারকারী ও বিজ্ঞাপনের বাজার ছাড়িয়ে দুই টেক-জায়ান্টের এই দ্বন্দ্ব এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি নীতির সুরক্ষায় এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপ ধারণ করেছে।





