গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট-২ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী আরেকটি চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এবং ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে আসা মোট ১৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওষুধ কারখানার একটি ভবনে প্রথম আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের ভবনের চারতলায় ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণে ওষুধ, কেমিক্যাল, ধাতব পদার্থ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নানা যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী সংরক্ষিত থাকায় আগুনের দ্রুত বিস্তার ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বহু গুণে বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের প্রচণ্ড তাপ, ঘন ধোঁয়া এবং রাসায়নিক পদার্থের তীব্র গন্ধে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কারখানার ভেতরে থাকা মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চারপাশ থেকে আগুন নেভানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম গণমাধ্যমকে জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, আগুনের লেলিহান শিখা অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কারখানার ভেতরে বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও নানা ধরনের সংবেদনশীল উপকরণ থাকার কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল রূপ নিয়েছে। আগুনের তীব্র তাপ ও রাসায়নিকের বিষাক্ত গন্ধে পুরো এলাকার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। তবে আগুনের প্রভাবে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড শুরুর পরপরই কারখানার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আগুনের ব্যাপকতার কারণে একপর্যায়ে চরম পানির সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পানির সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আগুনের ভয়াবহ তীব্রতা সামাল দেওয়া; এ দুটি বিষয়ই এখন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





