বিশ্ববাজার থেকে বিপুল স্বর্ণ কিনছে চীন, নেপথ্যে কী?

চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই কৌশলের লক্ষ্য হলো চীনের বিশাল বৈদেশিক সম্পদের ঝুঁকি কমিয়ে রিজার্ভকে আরও নিরাপদ ও বহুমুখী করা।

অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সঞ্চয়ের মূল্য ধরে রাখতে স্বর্ণ কিনছেন চীনের সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরেও তারা স্বর্ণ কিনেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা ২৩ মাস ধরে স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর ধারা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই মাসে প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কিনেছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক ক্রয় থেকে বোঝা যায়, এটি সাময়িক কোনও পদক্ষেপ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।

চীনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করার নজির। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশে থাকা প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেয়। এই ঘটনা বিদেশে রাখা আর্থিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের অভ্যন্তরে মজুত রাখা স্বর্ণের ক্ষেত্রে অন্য কোনও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ফলে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার উদ্দেশ্য এক নয়। বেইজিং তার বৈদেশিক সম্পদের ঝুঁকি কমাতে চাইছে। অন্যদিকে, চীনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার ও আবাসন খাতের অনিশ্চয়তার মধ্যে সঞ্চয়ের নিরাপদ বিকল্প খুঁজছেন।

সেপ্টেম্বরেই প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে চীন
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। এতে দেশটির ঘোষিত স্বর্ণের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এক মাসে এটিই ছিল চীনের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কেনার ঘটনা।

সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল স্বর্ণ। ২০২৪ সালের শেষেও এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, রিজার্ভে স্বর্ণ অংশ ক্রমেই বাড়াচ্ছে দেশটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বলতে আন্তর্জাতিক লেনদেনের দায় মেটানো এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত সম্পদকে বোঝায়। এতে সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি সরকারের ঋণপত্র এবং স্বর্ণ থাকে।

শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়, চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বেড়েছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে স্বর্ণ বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি স্বর্ণের দাম কমলেও কেনাকাটা অব্যাহত রয়েছে। এক মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের মতে, এর পেছনে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন সরকারি ঋণপত্রের তুলনামূলক বেশি মুনাফা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হলে মার্কিন সরকারি ঋণপত্রের মতো সম্পদে বিনিয়োগ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ, এসব বিনিয়োগ থেকে সুদ পাওয়া যায়। বিপরীতে, স্বর্ণ নিজে কোনও সুদ বা নিয়মিত আয় দেয় না। ফলে সুদহার বাড়লে স্বর্ণের তুলনায় সুদভিত্তিক সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

কেন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় বেইজিং?
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্যবাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান থু লান নগুয়েনের মতে, মার্কিন সরকারি ঋণপত্র বা ট্রেজারিজের ওপর নির্ভরতা কমানো চীনের স্বর্ণ কেনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

চীনের বৈদেশিক রিজার্ভের একটি বড় অংশ ডলারভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ করা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত, নিষেধাজ্ঞা কিংবা দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের কারণে এসব সম্পদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। স্বর্ণ কেনার মাধ্যমে সেই ঝুঁকিতে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে বেইজিং।

নগুয়েন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, চীনের স্বর্ণ কেনা রিজার্ভকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তোলার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশে থাকা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, বিদেশে রাখা বিপুল অর্থও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে মুহূর্তেই ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।

চীনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হলে বিদেশে থাকা চীনা সম্পদের একাংশও একই ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে।

নগুয়েনের ভাষায়, দেশের অভ্যন্তরে রাখা স্বর্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এটি অন্য কোনও দেশের কাছে পাওনা অর্থ নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম।

তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে চীনের এই উদ্যোগকে মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণও চীনের উদ্বেগের কারণ
চীনের স্বর্ণ কেনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সরকারি ঋণের পরিমাণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির জনগণের কাছে থাকা সরকারি ঋণ ২০২৬ সালে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়লে কিংবা বড় ধরনের আর্থিক সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। চীনের বিপুল ডলারভিত্তিক সম্পদ থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি বেইজিংয়ের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বর্ণ কোনও দেশের ঋণপত্র নয় এবং এর বিপরীতে অন্য কোনও সরকারের দায়বদ্ধতাও নেই। এ কারণে বৈদেশিক রিজার্ভের একটি অংশ স্বর্ণে রূপান্তর করলে নির্দিষ্ট কোনও দেশের আর্থিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণ কিনছেন চীনের সাধারণ মানুষ
চীনের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। দেশের শেয়ারবাজারের দুর্বলতা এবং আবাসন খাতের সংকট তাদের বিকল্প বিনিয়োগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
চীনের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঋণ, অতিরিক্ত নির্মাণ এবং বাড়ির দাম কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। একসময় যে আবাসন খাতকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেটি এখন অনেকের কাছে অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, শেয়ারবাজারের দুর্বল অবস্থাও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্চয়ের মূল্য ধরে রাখার বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ছে।

নগুয়েনের মতে, স্বর্ণের প্রতি প্রবল চাহিদার একটি কারণ হতে পারে বিকল্প মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম খোঁজা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া কিংবা অন্য বিনিয়োগে লোকসানের আশঙ্কা থেকে সঞ্চয়ের একটি অংশ স্বর্ণে রাখছেন অনেকে।

স্বর্ণ কেনা কি ডলারের আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত?
চীন বিপুল স্বর্ণ কিনলেও এর অর্থ এই নয় যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের আধিপত্য শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলার এখনও বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

নগুয়েন বলেন, চীনের স্বর্ণ কেনাকে ডলার থেকে বড় ধরনের সরে আসার ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তার মতে, ডলার এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী।

তবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নতুন রিজার্ভের বড় অংশ স্বর্ণে বিনিয়োগ করে এবং আগের তুলনায় কম মার্কিন সরকারি ঋণপত্র কেনে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের চাহিদার একটি উৎস দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে কতগুলো দেশ এই প্রবণতায় যুক্ত হচ্ছে এবং কত দ্রুত তারা ডলারভিত্তিক সম্পদের পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে তার ওপর।

নগুয়েনের মতে, এটি ডলারকে হঠাৎ পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া নয়; বরং ধীরে ধীরে রিজার্ভের বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ। এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়লে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনের দায় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সহজে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই স্বর্ণ আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সব কার্যক্রমের বিকল্প হতে পারে না।

শুধু চীন নয়, স্বর্ণ কিনছে অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যেও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এই প্রবণতার একটি কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়।

পোল্যান্ড এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন স্বর্ণ কিনেছে। জুলাই মাসে আরও আট টন স্বর্ণ যোগ করেছে তারা।

অন্যদিকে, বড় স্বর্ণের মজুত থাকলেই যে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনা হয়েছে, তা নয়। ভারতের উদাহরণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত জুনে নিশ্চিত করেছে, দেশটির ভৌত স্বর্ণের মজুত প্রায় ৮৮০ দশমিক ৫ টনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের স্বর্ণের মজুতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। দেশটি ২০২৫ সালে প্রায় চার টন স্বর্ণ কিনেছিল, যেখানে ২০২৪ সালে কিনেছিল ৭৩ টন।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের স্বর্ণের মজুত এখনও অনেক কম
দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ কিনলেও মোট মজুতের হিসাবে চীন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে চীনের স্বর্ণের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন—চীনের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত স্বর্ণের কিনে যাচ্ছে, পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর চাহিদা বাড়ছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি একদিকে বৈদেশিক সম্পদের ঝুঁকি কমাতে চাইছে, অন্যদিকে অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, চীনের স্বর্ণ কেনার কৌশলকে ডলারের আধিপত্যের অবসানের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বৈদেশিক রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনা, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি প্রক্রিয়া। তবে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই পথে এগোলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা