আনাচে-কানাচে মাদ্রাসা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান প্রয়োজন: জবি অধ্যাপক

দেশের আনাচে-কানাচে নানান মাদ্রাসা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিস্তার জাহান কবীর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি ফেসবুক পোস্টে বলেন, এমনিতে কোন ধর্ষণকারী, বলৎকার, নির্যাতনকারী কিংবা দুর্নীতিবাজ আমার জানাজা পড়াক, সেটি আমি চাই না এবং আমার পরিবারের কেউ চাক সেটি আমি পছন্দ করবো না। আমি মনে করি এদের প্রকাশ্যে থু থু দেবার ব্যবস্থা করা উচিৎ। তারপর বিচার। এবং সেই বিচারে তার সর্বচ্চো শাস্তি হোক সেটি আমি চাইবো।

এর কারণ দুটি। এক, এরা ধর্মের শিক্ষক এবং ধর্মের কথা বলে ধর্মকে অপমানিত করেছে এবং করছে। দুই, সাধারণ মানুষ হিসেবে (যারা ধর্ম অনুসরন করেন) অসংখ্য মানুষ এদের অনুসরন করেন, এবং এদের কথায় বিশ্বাস করেন। সেক্ষেত্রে, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এরা কেবল ভঙ্গই করেনি, তাদেরকেও অপমানিত করেছে। আমরা দেখেছি একজন বাবা তার ছোট্ট মেয়েটির প্রতি অপমানের পর, রাগ হয়ে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করেছে। আমি বলবো, তার মনের অবস্থা বোঝার। আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনা হলে আপনি কী করতেন? একে মব বলে চালাকি করার কোন উপায় নেই। ঐ তথাকথিত শিক্ষকের প্রতি কিন্তু আমরা আপনাদের ঘৃণা পর্যন্ত দেখলাম না। খুব দুঃখজনক।

বলেন, এরই ধারাবাহিকতায়, এখন একদল বের হয়েছে নতুন ফতোয়া নিয়ে। সেটি হল, তারা ভয় দেখাচ্ছে, যারা এই মারধর করবে, তাদের জানাজা এরা পড়বে না। মানে এরা ঐ সব অপকর্ম করবে, কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারবো না। জানাজা পড়ার জন্য সাধারণ একজন ভালো মানুষ হলেই হয়, যে জানাজা পড়াতে জানে। আমার শিক্ষার্থীদের অনেকেই তা জানে। ফলে, অতো ফতোয়াগিরির দরকার নেই। আমি মনে করি, যেই তথাকথিত মওলানা এই ফতোয়া দিয়েছে, তাকে সামাজিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা উচিৎ এবং তার বক্তব্যের জন্যও তাকে অন্য শাস্তি দেয়া যায় কিনা সেটা ভাবা জরুরি।

তিনি বলেন, আমার দৃষ্টিতে সে ঐ কথা বলতে পারে না। এবং সে ঐ একই অপরাধ করেছে। ধর্মকে অপমানিত করেছে এবং একজন অন্যায়কারির পক্ষ নিয়েছে। এটা অগ্রহণযোগ্য এবং খুবই নিন্দার্হ। ঐ লোকের তওবা করাও জরুরি। আর একটি কথা, এরা নিজেদের “আলেম”, “ওলামা”, “পীর”, “মাশায়েক” বলে দাবী করেন। “আলেম” বলতে যা বোঝায়, তা কি এরা জানে? সেই পরীক্ষায় এরা অনেকে, বহু ক্ষেত্রেই, কথা ও কাজে প্রমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে, এদের “আলেম” ইত্যাদি বলা হবে কেন?

তিনি আরও বলেন, আর একটি কথা, গ্রামে-গঞ্জে, আনাচে-কানাচে নানান মাদ্রাসায় ভর্তি। আমার ধারণা, সকল মাদ্রাসার অনুমোদন নেই সরকারের। এগুলি হতে দেয়া যাবে না। এব্যাপারে সরকারের অবস্থান আশা করছি। সেটি হলে, ভুয়া ফতোয়াবাজদের সংখ্যা কমে যাবে; এই সেক্টরের মূর্খতার পরিমান কমবে। একই সাথে দুশ্চরিত্র ও বেয়াদব “আলেমের” সংখ্যাও কমে যাবে।