ঋতু পরিবর্তনে বাড়ে হাঁচি-কাশি, যা করবেন

ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকের হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, চোখ চুলকানো ও কাশির সমস্যা বাড়ে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় সর্দি-জ্বর মনে হলেও সব ক্ষেত্রে এর কারণ ভাইরাস নয়। ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক, ডাস্ট মাইট এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকেও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হতে পারে।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে নাকের ভেতরের আবরণে প্রদাহ তৈরি হয়। এর সাধারণ লক্ষণ হলো বারবার হাঁচি, নাক ও চোখ চুলকানো, স্বচ্ছ পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা এবং কাশি। ধুলা, পরাগরেণু ও ছত্রাকের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর লোম বা ত্বকের মৃত কোষও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।

সর্দি নাকি অ্যালার্জি? অ্যালার্জিতে সাধারণত জ্বর থাকে না। অ্যালার্জির কারণে নাক দিয়ে পাতলা ও স্বচ্ছ পানি পড়ে এবং উপসর্গ বারবার ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে, ভাইরাসজনিত সর্দিতে শরীরব্যথা, হালকা জ্বর বা ঘন সর্দি থাকতে পারে এবং তা সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন ডাস্ট মাইটের সংস্পর্শ কমাতে বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সম্ভব হলে গরম পানিতে ধুয়ে ভালোভাবে শুকানো উচিত। ঘরের ধুলা পরিষ্কারের সময় শুকনো ঝাড়ুর বদলে ভেজা কাপড় ব্যবহার করা এবং ঘর শুকনো ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখা জরুরি। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছত্রাক জন্মালে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।

পরাগরেণু বা ধুলায় সমস্যা বাড়লে বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। উপসর্গ বেশি হলে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন, নাকের স্প্রে বা লবণ পানির নাক ধোয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। নাক খোলার ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে নাক বন্ধের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

কাশির সঙ্গে শ্বাসে বাঁশির মতো শব্দ, বুক চেপে আসা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটলে কিংবা হাঁপানি বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তীব্র বা দ্রুত বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।