নির্বাচনে ট্রাম্পের বিপর্যয়, যুদ্ধের সমীকরণে কী বদল আসছে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনীতি, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। তবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এখনও তার হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। ফলে নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে তিনি সমঝোতার পথে হাঁটবেন, নাকি নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আরও কঠোর হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরান: যুদ্ধ নাকি সমঝোতা?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, যুদ্ধের কারণেই তাদের পরাজয় হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের ফলকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের রায় হিসেবে দেখছে তেহরান।

তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মনে করেন, মার্কিন নির্বাচনের ফল দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনবে- এমন ধারণা ভুল। তেহরান একদিকে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ- সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে বিজয় ঘোষণা করা অথবা সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেয়ে আপাতত হরমুজ প্রণালি নিয়ে অন্তর্বর্তী সমঝোতার সম্ভাবনাই বেশি।

ইসরায়েল: মার্কিন সমর্থনে ভাঙন
নির্বাচনের দিন ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

গাজা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন ইতোমধ্যে দুর্বল হয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেনের মতে, মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্ক একটি যুগের অবসানের মুখে। ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থার যৌথ উন্নয়ন এবং অস্ত্র বিক্রিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের অভিযানের বিরোধিতা বাড়ছে।

ইউক্রেন: ওয়াশিংটনের সমর্থনের অপেক্ষা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ইউক্রেনের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছে না কিয়েভ। অস্ত্র, অর্থ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল নীতির কারণে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে ইউক্রেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে আরও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে ওয়াশিংটনের নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আগেই মস্কো যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইবে। সূত্র: সিএনএন